Author

admin

Browsing

Diet Coke: এতদিন অনেকেই ভাবতেন, মদ খেলে লিভারের হয়। কিন্তু সেই একই রকমের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে বোতলবন্দি ঠাণ্ডা পানীয়। সম্প্রতি বার্লিনে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনাইটেড ইউরোপিয়ান গ্যাসট্রোএন্ট্রোলজির বার্ষিক কংগ্রেসে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তার ছত্রে ছত্রে রয়েছে বিস্ফোরক তথ্য

পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে নিশ্চয় আপনিও ঠাণ্ডা পানীয় খেয়েছেন? ক্লান্ত শরীরে যেন একরাশ এনার্জি যোগ করে বোতলবন্দি কালো-কমলা বা সাদা রঙের মিষ্টি ঠাণ্ডা পানীয়। কিন্তু জানেন কি, মাত্র এক বোতল বা ক্যানবন্দী ঠাণ্ডা পানীয় লিভারের জন্য কতটা ক্ষতিকারক? তা সে ‘ডায়েট’ কোল্ড ড্রিঙ্কস হোক বা সাধারণ ফুল ফ্যাট কোল্ড ড্রিঙ্কস! সম্প্রতি এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যা চমকে দিয়েছে গবেষকদেরও। এতদিন মনে করা হত, যাঁরা অনেক বেশি পরিমাণে ঠাণ্ডা পানীয় পান করেন, তাঁদেরই লিভারের রোগ হওয়ার বেশি প্রবণতা থাকে, কিন্তু সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে দিয়েছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

ব্রিটেনের এক নয়া গবেষণার প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ঠাণ্ডা পানীয় পান করলে লিভারের ভিতর অতিরিক্তি চর্বি জমা হতে থাকে। যেখান থেকে MASLD বা ‘মেটাবলিক ডিস-ফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটটিক লিভার ডিজিজ’ জন্ম নেয়। এর সঙ্গে কম বা বেশি পরিমাণে ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়ার যোগ নেই। মাত্র ২৫০ মিলিলিটারের ফিজি কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস লিভারের প্রাণঘাতী রোগ হওয়ার প্রবণতাকে এক ধাক্কায় ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

১,২৩,০০০ ব্রিটিশ পূর্ণবয়স্কদের উপরে বৈজ্ঞানিকরা এই গবেষণা চালান। দেখা যায়, যাঁরা কোকা-কোলা পান করেন, তাঁদের লিভারের রোগ ধরা পড়ার প্রবণতা ৫০% বেশি। তাজ্জব করা বিষয়, সাধারণ ছেড়ে যাঁরা চিনি কম খাবেন বলে ডায়েট কোক বা স্প্রাইট জিরো পান করেছেন, তাঁদের MASLD হওয়ার সম্ভাবনা ৬০% বেশি। গবেষণার ফলাফল দেখে বৈজ্ঞানিকরা বলেছেন, বোতলের গায়ে ‘ডায়েট’ লেখা থাকলেই ঠাণ্ডা পানীয় স্বাস্থ্যকর, এই ধারণা টাই ভুল। এটা বিজ্ঞাপনী প্রচার মাত্র। গবেষকদের বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্যসচেতন বহু মানুষই আজকাল ডায়েট কোল্ডড্রিঙ্কস খেয়ে ভাবেন, বোধহয় শরীরে চিনির মাতা ঠিক রাখলেন। কিন্তু ওই ডায়েট পানীয় খেয়ে যে লিভার শেষ হয়ে যাচ্ছে সেটা অনেকেরই অজানা।’

গবেষকরা বলছেন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব জুড়েই ঠাণ্ডা পানীয় গ্রহণের প্রবণতা বিপজ্জনক ও চিন্তার বিষয়। প্রতিদিন মাত্র এক ক্যান করে ‘লো’ বা ‘জিরো’ সুগারের সুইটেনড ড্রিঙ্কস প্রাণঘাতী লিভারের রোগ একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অনেকেই সেটা জানেন পর্যন্ত না! কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে মিষ্টি বানানো পানীয় থেকে দূরে থাকাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, বলছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, তেষ্টা পেলে জল খান। জল মেটাবলিজম ঠিক রাখে ও লিভারের বাড়তি ফ্যাট ঝরিয়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।

আসলে যে সব ঠাণ্ডা পানীয়ে চিনি থাকে, সেগুলি ব্লাড গ্লুকোজ ও ইনসুলিন লেভেলকে প্রভাবিত করে। এতে ওজন ও ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে। কিন্তু নন সুগার ড্রিঙ্কস সরাসরি ‘গাট মাইক্রোবায়াম’-এ প্রভাব ফেলে। এতে লিভারের স্বাস্থ্য খারাপ হয়। ৭ অক্টবর বার্লিনে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনাইটেড ইউরোপিয়ান গ্যাসট্রোএন্ট্রোলজির বার্ষিক কংগ্রেসে এই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। ব্রিটিশ লিভার ট্রাস্ট-এর অনুমান, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন আজ MASLD বা ‘মেটাবলিক ডিস-ফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটটিক লিভার ডিজিজ’-এ আক্রান্ত। যাঁর মধ্যে ৮০% আক্রান্ত জানেনই না যে তাঁদের লিভারের সমস্যা রয়েছে। ডায়াবেটিস বা ওজন বেশি থাকলে অবশ্যই লিভারের টেস্ট করানো উচিত, পরামর্শ চিকিৎসকদের। তাঁরা এও বলছেন, মানুষ ভাবেন শুধু মদ খেলে লিভারের ক্ষতি হয়। কিন্তু বাড়তি মেদ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার-ও শরীরের একইরকম ক্ষতি করে।

চার বছরের জারিফ প্রায়ই রাতে পায়ে ব্যথা হচ্ছে বলে কান্না করে। কিন্তু দিনের বেলায় তার এই ধরনের কোন অনুযোগ থাকে না বলে তার মা এই ব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেয় নি। কিন্তু কাল থেকে সে হাঁটতে গেলেও ব্যথা পাচ্ছে বলার পর বিষয়টি নিয়ে জারিফের মা একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জারিফের মা কে চিকিৎসক বলেন এটা গ্রোথ পেইন। আসুন এবার জেনে নেই শিশুর গ্রোথ পেইন কী এবং এই সমস্যার আদ্যোপান্ত।

গ্রোথ পেইন কী?

শিশুরা যখন বড় হতে থাকে, বিশেষ করে ৩ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে, অনেক সময় তাদের পায়ের পেশি বা সন্ধিতে ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথাকে বলা হয় “গ্রোথ পেইন”। এটি কোনো গুরুতর রোগ নয়, বরং একটি সাধারণ শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়া। গ্রোথ পেইনের সময় ব্যথা সাধারণত দিনের চেয়ে রাতের বেলা বেশি অনুভূত হয় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেক সময় ব্যথা থাকেই না।

যে কারণে গ্রোথ পেইন হয়ঃ

গ্রোথ পেইনের সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনও বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে কিছু কারণকে সম্ভাব্য বলে ধরা হয়:

১। পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ:

শিশুরা সাধারণত দিনব্যাপী খুবই সক্রিয় থাকে। দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা বা লাফালাফির কারণে তাদের মাংসপেশি ও জয়েন্টে চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় ব্যথার কারণ হতে পারে।

২। দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি:

শিশুর শরীরের হাড় ও পেশি যখন দ্রুত বাড়তে থাকে, তখন পেশি ও হাড়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হয়। ফলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

৩। সঠিক ভঙ্গিতে চলাফেরা না করা:

যদি শিশু সঠিক ভঙ্গিতে না বসে বা না হাঁটে, তবে পেশি এবং হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে। যেমন: ঘাড় ঝু্ঁকে পড়া বা মোবাইল দেখা, কুঁজো হয়ে বসা ইত্যাদি।

গ্রোথ পেইনের কিছু সাধারণ লক্ষণ:

  • ব্যথা পায়ের উরু, কাফ মাসল (পায়ের পেছনের অংশ) বা হাঁটুর আশপাশে অনুভূত হয়।
  • ব্যথা সাধারণত রাতের বেলা বেশি হয় এবং সকালে কমে যায়।
  • ব্যথা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নাও থাকতে পারে।
  • ব্যথা এত তীব্র হয় না যে শিশু স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে না।

গ্রোথ পেইন থেকে পরিত্রাণের উপায়:

গ্রোথ পেইন কোনো গুরুতর সমস্যা নয়, তবে শিশুর ব্যথা কমানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

১। ম্যাসাজ:

ব্যথা কমানোর জন্য হালকা ম্যাসাজ খুবই কার্যকর। শিশুর পায়ের ব্যথার জায়গায় ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন।

২। গরম সেঁক:

গরম পানির ব্যাগ বা হিটিং প্যাড দিয়ে ব্যথার জায়গায় সেঁক দিন। এটি পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

৩। ব্যায়াম:

শিশুকে হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করুন। এতে পেশি মজবুত হয় এবং ব্যথা কমে। প্রয়োজনে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

৪। পেইন রিলিফ ক্রিম:

কিছু ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫। পর্যাপ্ত বিশ্রাম:

শিশুর শরীরের পেশি ও হাড় পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।

চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন?

  • যদি ব্যথার সাথে নিচের কোনও লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
  • ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
  • ব্যথা এত তীব্র হয় যে শিশুর চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়।
  • ব্যথার সঙ্গে অন্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যেমন জ্বর, ফুলে যাওয়া, বা লালচে হয়ে যাওয়া।

গ্রোথ পেইন কমাতে শিশুর সঠিক যত্নঃ

১। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা:

শিশুর খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন নিশ্চিত করুন।এগুলো হাড় ও পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে।

২। সক্রিয় জীবনযাপন:

শিশুকে খেলার মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে উৎসাহিত করুন। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। শিশু যেন পর্যাপ্ত ঘুমায় এবং বিশ্রাম করে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৩। সঠিক ভঙ্গি:

শিশু যেন সঠিকভাবে বসে, হাঁটে ও দৌড়ায়, তা নিশ্চিত করুন।

৪। জুতার সঠিক নির্বাচন:

শিশুর জুতা আরামদায়ক ও সঠিক মাপের হওয়া উচিত যেন তা পায়ে ব্যথার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

গ্রোথ পেইন একটি সাধারণ ও সাময়িক বিষয়, যা শিশুর বেড়ে ওঠার অংশ। যদিও এটি শিশুদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শিশুকে প্রয়োজনীয় ভালোবাসা ও সমর্থন দিন এবং তাদের আরামদায়ক রাখতে সচেতন থাকুন। প্রতিটি শিশুই বেড়ে উঠুক স্বাস্থ্যবান, সুরক্ষিত ও সুখী পরিবেশে।

বাইরের তাপমাত্রা ৩০+ ডিগ্রী। সামনে এই তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ৩৫-৩৭ এ। গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট সবাই। বড়রা তো মেনে নিতে পারে, বাচ্চাদের জন্য মানিয়ে নেওয়া, বোঝা খুবই কষ্টের। এর মাঝে গরমের রোগ ব্যাধি তো আছেই। গরমের তীব্রতায় বাচ্চাদের খাবারের প্রতিও কোন আগ্রহ থাকে না। গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে বাচ্চাদের খাবার রুটিনের গরমিল যেন নিত্য দিনের ব্যাপার।

গরমে বাচ্চারা কী খাবে, খাবারের ধরন কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে তাদের ভালো রাখা যাবে এই নিয়ে বাবা মায়ের উৎকন্ঠার শেষ নেই। তাদের কিছুটা স্বস্তির জন্যই আমার আজকের লেখা।

গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে শিশুর খাবার যেমন হতে হবে

৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের শুধুমাত্র ব্রেস্ট মিল্ক দিবেন যতোটা সম্ভব। আর্টিফিশিয়াল বা কৌটার দুধ এড়িয়ে চলবেন একেবারে ইমার্জেন্সি না হলে। গরমে বাচ্চাদের ডায়রিয়া, বদহজম, বিভিন্ন চর্মরোগ, সর্দি কাশি, নিউমোনিয়া হতে বেশি দেখা যায়। কাজেই শিশুদের খাবার এমন হতে হবে যেন তা থেকে রোগ সংক্রমণ না হয়।

এছাড়াও গরমে শিশুর খাবার তৈরির সময় আরও যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে সেগুলো হলঃ

১) বাচ্চাদের খাবার হতে হবে সহজপাচ্য। সে হিসেবে নরম করে রান্না ভাত বা জাউ ভাত হতে পারে তাদের কমন খাবার। কম তেল মসলায় /পাঁচফোড়নে রান্না করা সবজি, আর পেঁপে লাউ, ঝিঙ্গা, শশা ইত্যাদি পানি জাতীয় সবজি দিয়ে পাতলা করে মাছের ঝোল দেওয়া যেতে পারে।

২) বাসি খাবার, বাইরের খাবার, ভাজা পোড়া এগুলো পুরোদমে এড়িয়ে যেতে হবে। হালকা পুষ্টিকর খাবার যেমন সবজি দিয়ে নরম পাতলা খিচুড়ি (কম তেল মসলায়), সবজির স্যুপ, মাছ বা মাংসের পাতলা ঝোল দিতে পারেন। এছাড়া ফ্রিজের পানি সরাসরি পান করা থেকে বিরত রাখতে হবে।

৩) ফল বা ফলের জুস ইত্যাদি যতোটা দিতে পারেন ভালো। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, তরমুজ, পেঁপে, জাম, জামরুল ইত্যাদি দেশীয় ফল শিশুকে খেতে দিন। একটু বড় বাচ্চা হলে খাবারের সাথে শশা, গাজর, লেবু দিতে পারেন। মাঝে মাঝে খাবারে রাখতে পারেন দই-চিড়া কলা।

৪) পানি পানের ক্ষেত্রে ফিল্টার পানি পান করাতে হবে। বাইরের খোলা শরবত যেন শিশু না খায়।

৫) প্যাকেট জাত খাবার, চিপস, কেক, চকলেট, আচার, বিস্কুট, দেওয়ায় সতর্ক থাকুন।

প্রচন্ড গরমে শিশুর বিশেষ যত্ন

১) যে ঘরে তাপমাত্রা একটু কম থাকে সে ঘরে বাচ্চাদের রাখতে হবে। এসি থাকলে Temperature ঠিক রাখবেন, যেন বেশি ঠান্ডা না হয় ঘর।

২) বাচ্চাদের নিয়মিত এক বা দুইবার গোসল করালে ভালো অনুভব করে। যেসব বাচ্চারা বেশি ঘামে, তাদের গা মাথা সুতি নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

৩) শিশুর প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন, না হয় ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। বাচ্চারা যেন খেলা বা পড়ার ফাঁকে পানি পান করে সেটি লক্ষ্য রাখুন।

৪) বাচ্চাকে সুতি কাপড় পড়ানো সবচেয়ে ভালো, এতে করে ঘামাচি, চর্ম রোগ,র‍্যাশ কম হবে শরীরে।

৫) বাইরে বা স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে শিশুর জন্য উপযোগী সানস্ক্রিন লাগাতে পারেন। ছাতা, রুমাল, পানির বোতল দিতে ভুলবেন না।

এই টিপস গুলো মেনে চললে আশা করি গরমেও শিশুরা থাকবে সুস্থ। আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন।

ইউরিন ইনফেকশন যে শুধু বড়দের হয় ব্যাপারটা কিন্তু তা না। বড়দের মতোই বিভিন্ন কারণে শিশুর ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিতে পারে মূত্রতন্ত্রের কোনো অংশে জীবাণুর সংক্ৰমণ হলে সেটিকে ইউরিন ইনফেকশন বা প্রস্রাবের সংক্ৰমণ বা UTI বলে। মেয়ে শিশুদের এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কিন্তু ছেলে শিশুদেরও এই সমস্যা হতে পারে।

মেয়ে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্ৰমণ হওয়ার প্রবণতা বেশি কারণ মেয়েদের মূত্রনালী ছেলেদের মূত্রনালীর তুলনায় দৈর্ঘ্যে অনেক ছোট। এছাড়া মেয়েদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছাকাছি অবস্থিত, ফলে ব্যাকটেরিয়া পায়ুপথ থেকে মূত্রনালীতে খুব সহজে প্রবেশ করে প্রস্রাবের সংক্ৰমণ ঘটায়।

শিশুর ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ

১ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ইউরিন ইনফেকশন হলে সাধারণত শিশু অকারণে বিরক্তি প্রকাশ করে, খেতে চায় না। শিশুর জ্বর থাকতে পারে, কখনো কখনো ডায়রিয়া দেখা দেয়। প্রস্রাবে দুর্গন্ধ, গাঢ় প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা একেবারেই না হওয়া এ ধরনের লক্ষণও দেখা যায়।

১ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ইউরিন ইনফেকশন হলে যে লক্ষণ গুলো দেখা দেয় তা হলঃ

  • জ্বর
  • ঘন ঘন প্রস্রাব
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
  • বিছানায় প্রস্রাব করা
  • তলপেটে ব্যথা
  • কখনো কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
  • কিডনির স্থানে ব্যথা

প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ, ঠিকমতো প্রস্রাব না হওয়া, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা- এই উপসর্গ গুলোও থাকতে পারে।

শিশুদের ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন কেন হয়?

১. মলত্যাগের পর ধৌত করার সময় এসব ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের দ্বার দিয়ে মূত্রনালি পথে ভেতরে প্রবেশ করলে।

২. এছাড়া মূত্রপথে কোনো আবদ্ধতা(obstruction)থাকলে।

৩.কোষ্ঠকাঠিন্য।

৪. কিছু বাচ্চার মধ্যে জন্ম থেকেই ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স বলে এক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাদের বেশি হয়।

৫. নার্ভাস সিস্টেমের অসুখ থাকলে ব্লাডার পুরোপুরি খালি হতে পারে না।

৬. বাচ্চার যদি টয়লেটে যেতে অনীহা থাকে।

ইউরিন ইনফেকশনের চিকিৎসা

শিশুর ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা দিলে সেগুলো উপেক্ষা না করে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষণগুলো কমে আসতে শুরু করলেও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধের কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণত ঔষধ খাওয়া শুরু করার দুই-তিন দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো কমতে শুরু করে। যদি ঔষধের কোর্স সম্পন্ন করার পরেও লক্ষণের উন্নতি না হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশুর ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ

কিছু নিয়ম মেনে চললে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা যায়। যেমনঃ মেয়ে বাচ্চাদের টয়লেটে টিস্যু ব্যবহারের সময়ে সামনে থেকে পেছনে পরিষ্কার করুন। শিশুর যৌনাঙ্গ শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন। তাকে প্রচুর পানি পান করান। বাথটাব বা পুকুরে গোসল করার পরিবর্তে শাওয়ার কিংবা বালতির সাহায্যে গোসল করান।প্রস্রাব করার সময় শিশু যেন তাড়াহুড়া না করে সেদিকে খেয়াল করুন।

প্রস্রাবের বেগ আসলে তা ধরে রাখবে না এটা বাচ্চাদের শিখাতে হবে। টাইট প্যান্ট পরাবেন না। ইউরিন ইনফেকশন উপেক্ষা করলে সেটি খুব সহজেই গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে। তাই লক্ষণগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত ও ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।

ডায়াবেটিস বলতে আমরা বুঝি রক্তে গ্লুকোজের আধিক্য। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus/GDM) বলা হয়ে থাকে। সাধারণত প্রেগনেন্সিতে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে ইন্সুলিন ঠিকভাবে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত সন্তান জন্মদানের পরই সেরে যায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে পরবর্তীতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে গর্ভের শিশুও ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই এসময় সঠিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ভীষণ জরুরি।

একজন নারী মা হওয়ার সময় অনেক রকমের জটিলতার মধ্য দিয়ে যায়। তবে এসময়ে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা GDM হলে পুরো প্রেগনেন্সিতে একটু বেশিই সচেতন থাকতে হয়। পাশাপাশি লাইফস্টাইল মডিফিকেশন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনও এক্ষেত্রে একান্ত আবশ্যক।

জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস এর কিছু কমন লক্ষণ

(১) বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া, বিশেষ করে রাতে

(২) ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন দেখা দেওয়া

(৩) অতিরিক্ত পিপাসা পাওয়া

(৪) অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ হওয়া

(৫) বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া

(৬) ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া

কোনও কোনও ক্ষেত্রে মায়ের ওজন কমে যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় অন্য অনেক কারণেই ওজন কমতে পারে তাই ওজন কমে গেলেই ডায়াবেটিস হয়েছে এমন ভাবা যাবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে সবার ক্ষেত্রে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের লক্ষণ এক নাও থাকতে পারে, কাজেই উপরের লক্ষণগুলো থাকলেই GDM হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। সঠিক ডায়াগনোসিসের মাধ্যমেই জানা যাবে যে সত্যিই GDM হয়েছে কিনা।

প্রেগনেন্সিতে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার পদ্ধতি 

জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য সাধারণত Oral Glucose Tolerance Test করা হয়। গর্ভাবস্থায় ২৪-২৮ সপ্তাহে এই পরীক্ষা করা হলেও যেসব মায়েরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটি আগে করা হয়।

এক্ষেত্রে খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ৬.১ মিলিমোল/লিটার (১১০মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) বা তার চেয়ে বেশি অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলিমোল/লিটার (১৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) বা তার চেয়ে বেশি হলে তাকে GDM ধরা হয়।

জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস (GDM) হলে খাদ্যাভ্যাস যেমন হওয়া উচিত

গর্ভাবস্থায় সকলেরই সঠিক পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে রোগীকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা মেনে চলতে হবে।

১) যতটা সম্ভব পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে, মুখে যা ভালো লাগবে তাই অনেক পরিমাণে খেয়ে ফেলবো এমনটা একদম করা যাবে না।

২) এ সময়ের খাদ্য তালিকা এমন হওয়া উচিত যাতে সঠিক পরিমাণে আমিষ, চর্বি, শর্করা এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ আর ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হবে।

৩) গ্লুকোজ লেভেলকে ঠিক রাখতে সময় মেনে খাবার খেতে হবে। সকালের নাস্তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো বেলার খাবার স্কিপ করা যাবে না, অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে।

৪) অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার, ফাস্টফুড, ডুবো তেলে ভাজা খাবার, রিচ ফুড খাওয়া অবশ্যই পরিহার করতে হবে।

৫) নির্দিষ্ট পরিমাণে ফল ও সবজি খাদ্য তালিকায় যোগ করুন, প্রতিবেলার খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখার চেষ্টা করুন।

৬) সরাসরি চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খাদ্যতালিকায় রাখবেন না। চর্বি ছাড়া মাছ, ডিম, মুরগির বুকের মাংস খেতে পারেন। লাল মাংস এড়িয়ে চলুন।

৭) নিয়মিত লো-ফ্যাট দুধ ও টক দই খেতে পারেন। খাবারে তেলের ব্যবহার কমাতে হবে, সম্ভব হলে রাইস ব্র্যান, সানফ্লাওয়ার বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

৮) সাদা চিনি ও সাদা আটা ডায়েটে না রেখে পরিমিত পরিমাণে খেজুর, লাল আটা, ওটস খাদ্য তালিকায় যোগ করুন।

৯) সুগার ক্রেভিং হলে বিস্কুট, কেক, চকলেট, আইসক্রিম এর পরিবর্তে মিষ্টি ফল খেতে পারেন।

১০) চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একসাথে অনেক খাবার না খেয়ে খাবারগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিতে হবে, ক্যালরি ঠিক রেখে ৩ বেলা প্রধান খাবার, ১/২ বেলা হালকা নাস্তা খেতে হবে।

১১) সকালের খাবারে লো গ্লাইসেমিক খাবারগুলো রাখতে হবে। যেকোনো বেলার খাবারে অর্ধেক শাক-সবজি, বাকি অর্ধেক প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট রাখবেন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করবেন।

লাইফস্টাইলে যেমন পরিবর্তন জরুরি

জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস (GDM) হলে লাইফস্টাইলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যেন গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মা ও শিশু দুজনেই থাকে সুস্থ।

প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে ৫-১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন। যদি অন্য কোনও কমপ্লিকেশন না থাকে তাহলে কিন্তু প্রেগনেন্সিতেও হালকা ধরনের ব্যায়াম, হাঁটা চলা, কিছু যোগব্যায়াম করা যায়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে তারপর ব্যায়াম করুন।

অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি GDM এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে গর্ভের শিশুরও ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ওজন বা টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। মায়ের হৃদরোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের দিকে মনোযোগী হতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক ছাপ GDM নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করে। তাই মনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। মেডিটেশন এক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। ঘুমের ঘাটতি হলে ইন্সুলিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে যা GDM এর ক্ষেত্রে আরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

শেষকথা

GDM বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দিলে অবশ্যই একজন গাইনী ডক্টর এর পরামর্শে থেকে নিজের ও গর্ভের শিশুর অবস্থা পরীক্ষা করানো উচিত। এছাড়া পুষ্টিবিদের পরামর্শমতো গর্ভাবস্থার পুরো সময় জুড়ে সঠিক নিয়ম ও ক্যালরি মেনে খাবার খেতে হবে। অর্থাৎ সঠিক খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা একান্ত আবশ্যক। গর্ভাবস্থায় নিয়মিতভাবে ফিজিক্যাল কন্ডিশন বুঝে হাঁটাহাটি বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে, তবে অবশ্যই আপনার ডক্টর, এক্সপার্ট ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী। কোনো অবস্থাতেই এক্সপার্ট এর পরামর্শ ছাড়া ভারি কোনও ব্যায়াম যাবে না।

সঠিকভাবে নিয়ম মেনে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হলেও মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।

সরাসরি ধূমপান না করলেও প্যাসিভ স্মোকিং হতেই থাকে। আর সেটাই কিন্তু বড় বিপদের কারণ আপনার জন্য। শুনলে অবাক হবেন, সরাসরি ধূমপানের চেয়ে কিন্তু অনেক বেশি ক্ষতিকারক প্যাসিভ স্মোকিং। জানেন, প্যাসিভ স্মোকিং করলে কী কী ক্ষতি হয়?

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক তা সকলেই জানেন। এটি যে ধীরে ধীরে আপনার ফুসফুসকে নষ্ট করে দেয় তাও প্রায়শই দেখা যায় বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে এবং নানা স্থানে। অবশ্য আজকাল অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতন। তাই ধূমপানের দিকে যান না। এদিকে হয়তো আপনি এমন কোনও পরিবেশে থাকছেন, যেখানে কেউ না কেউ ধূমপান করেন। অর্থাৎ সরাসরি ধূমপান না করলেও প্যাসিভ স্মোকিং হতেই থাকে। আর সেটাই কিন্তু বড় বিপদের কারণ আপনার জন্য। শুনলে অবাক হবেন, সরাসরি ধূমপানের চেয়ে কিন্তু অনেক বেশি ক্ষতিকারক প্যাসিভ স্মোকিং। জানেন, প্যাসিভ স্মোকিং করলে কী কী ক্ষতি হয়?

১. ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হ্রাস পায় – যেসব শিশু পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে আসে, তাদের ফুসফুসের ক্ষমতা ধূমপানমুক্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের তুলনায় দুর্বল হয়। তাদের শ্বাসনালী আকারে ছোট এবং এখনও বিকাশমান। ফলে ক্ষতিকারক রাসায়নিকের প্রভাব তারা সহজে গ্রহণ করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি ফুসফুসের বৃদ্ধি ব্যাহত করে এবং শ্বাস নেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

২. হাঁপানির ঝুঁকি বাড়ে – প্যাসিভ স্মোকিং শিশুদের হাঁপানির একটি পরিচিত কারণ। সামান্য সময়ের এক্সপোজারও শ্বাসনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে শোঁ শোঁ শব্দ, কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আগে থেকেই হাঁপানি-আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রমণ আরও ঘন ঘন ও গুরুতর হতে পারে।

৩. সংক্রমণের ঝুঁকি – প্যাসিভ স্মোকিংয়ে ধোঁয়ার বিষাক্ত কণাগুলো শ্বাসতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। এর ফলে শিশুদের ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া ও কানের সংক্রমণ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। বারবার সংক্রমণ শুধু তাত্ক্ষণিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ফুসফুসের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

৪. অ্যালার্জি ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি – তামাকের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা অ্যালার্জেনের প্রতি সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে তোলে, যা দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের সমস্যার কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্যাসিভ স্মোকিং প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (COPD)-এর ঝুঁকি বাড়ায়।

আজকাল প্রায় দেখা যায়, রিপোর্টে গর্ভস্থ ভ্রুণ এর ওজন (fetal weight/growth) সময়ের তুলনায় অনেক কম। এর কারণ আমাদের প্রেগনেন্সি পুষ্টি সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। খাবার খেলেই হবে না, তিন বেলা ভাত খাওয়া প্রেগনেন্ট মায়েদের জন্য কোনো কাজে আসবে না, যদি না তার খাবারটি সুষম হয়। আজ এই বিষয়ে আমরা পুষ্টিবিদের পরামর্শ জেনে নিবো।

গর্ভাবস্থায় শিশুর সুস্থ বৃদ্ধি ও বিকাশে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যারা প্ল্যান করছেন কনসিভ করার, অবশ্যই কিছু সময় আগে থেকে ডাক্তারের পরামর্শ মতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ভিটামিন বা অন্যান্য ট্যাবলেট গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া গর্ভাবস্থার শুরু থেকে অবশ্যই সঠিক আর পুষ্টিকর খাবারে আপনাকে অভ্যস্ত হতে হবে এক্সপার্ট/ পুষ্টিবিদ পরামর্শ অনুযায়ী। আজ আমাদের আলোচনার বিষয় গর্ভস্থ ভ্রুণ এর সঠিক বৃদ্ধিতে পুষ্টিকর খাবারের ভূমিকা নিয়ে।

গর্ভস্থ ভ্রূণ (fetal weight) এর সঠিক বৃদ্ধিতে খাবার

প্রতিটি নারীর জীবনে প্রেগনেন্সি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। কাজেই শুরু থেকে যত্নবান হতে হবে। গর্ভস্থ ভ্রূণ (fetal weight) এর ওজন বাড়াতে সাহায্য করবে যে সব খাবার-

আয়রন সমৃদ্ধ খাবার- একজন গর্ভবতী মায়ের প্রতিদিন ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন প্রয়োজন। উৎস : কচুশাক, ডিম, কলা, খেজুর, কিশমিশ, কলিজা, পালংশাক, মুরগীর মাংস, ছোট মাছ।

পটাশিয়াম, জিংক সমৃদ্ধ খাবার- কিশমিশ, মিষ্টি আলু, ব্রকলি, মসুর ডাল, টক দই, কমলার জুস ও পালংশাক

ক্যালসিয়াম এর ঘাটতি পূরণে খাবার- দুধ, চীজ, ডেইরি ফুড

তরল খাবার

পরিমাণমতো পানি ( ২.৫ থেকে ৩ লিটার), তরল খাবার পান করুন। নিজেকে হাইড্রেটেড রাখতে হবে এই সময়। এজন্য সিজনাল ফল বা সবজির জুস, কমলার জুস, ডাবের পানি, লেবু পানি পান করা আবশ্যক।

অন্যান্য খাবার

বিভিন্ন ধরনের বাদাম (কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কাজু বাদাম), সীড জাতীয় খাবার ( শিমের বিচি, কুমড়ার বিচি), কিশমিশ, দই, পিনাট বাটার, চিড়া, ওটস, দুধ ও দুধের তৈরি খাবার, সামুদ্রিক মাছ, ছোট মাছ, ডিম, বিভিন্ন দেশি মাছ, মিষ্টি আলু, ডাল, সয়া আইটেম ইত্যাদি খাদ্যতালিকায় রাখলে ভ্রূণের ওজন বাড়বে। জিংক, ফলিক অ্যাসিড, বিভিন্ন ভিটামিন, নায়াসিন যুক্ত খাবার আপনার খাদ্যতালিকায় আছে কিনা সেটা দেখে নিন। সব খাবার সবার জন্য নয়। রোগের ধরন, প্রেগনেন্সিতে শারীরিক অবস্থা বুঝে খাদ্যতালিকায় খাবার যোগ করতে হবে।

প্রথম ট্রাইমেস্টারে যে খাবারগুলো খেতে মানা করা হয় 

  • চীজ বা পনির
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার
  • বিভিন্ন প্রকার সি ফুড
  • কাঁচা পেঁপে, আনারস, সজনে ডাটা
  • কাঁচা ডিম, মেয়োনেজ, আধা সেদ্ধ খাবার
  • জাংক ফুড
  • অতিরিক্ত ক্যাফেইন, অ্যালকোহল, অধিক মিষ্টিজাতীয় খাবার

আশা করি, আজকের ফিচারটি হেল্পফুল ছিলো। গর্ভস্থ ভ্রূণ এর সঠিক বৃদ্ধিতে হবু মায়ের খাদ্যতালিকা কেমন হবে এই বিষয়ে সরাসরি জানতে এবং চার্ট নিতে পুষ্টিবিদের কাছে যেতে পারেন। আজ এ পর্যন্তই, সবাই ভালো থাকবেন।

নবজাতক বা ছোট শিশুদের ঘুম নিয়ে অনেক অভিভাবকই চিন্তিত হয়ে থাকেন। অনেকেই অভিযোগ করেন যে বাচ্চার ঘুম খুব কম বা বাচ্চা রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না। প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা ঘুম একটি শিশুর জন্য স্বাভাবিক। বয়সভেদে এই ঘুমের চাহিদা ভিন্ন হয়ে থাকে। শিশুদের ঘুম কখনোই একটানা হয় না বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাঙা ভাঙা ও অসংগঠিত হয়। যদি শিশু দিনের বেলায় একটা বড় সময় ধরে ঘুমায়, তাহলে তার রাতের ঘুমের প্যাটার্নটি অনিশ্চিত হতে পারে। অর্থাৎ, রাতের বেলায় কম ঘুমানো শিশুর জন্য মোটামুটি সাধারণ একটি ব্যাপার। কিন্তু রাতে না ঘুমানো বা কম ঘুমানো যেমন শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ, তেমন বাবা মায়ের দৈনন্দিন জীবনের রুটিনেও এটি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিশুর ঘুমের সমস্যার সমাধান নিয়েই আজকের ফিচার!


শিশুর ঘুমের সমস্যার প্রধান কারণ 

বাচ্চার রাতে ঘুম না হওয়ার অনেক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে তিনটি কারণ উল্লেখযোগ্য।

  • ক্ষুধা বা অন্য কোনও কারণে ঘুমাতে না পারা
  • কোনও ধরনের শারীরিক অস্বস্তি বোধ করা
  • হঠাৎ মায়ের সান্নিধ্য বা স্পর্শ না পাওয়া

ঘুমের এই শিডিউল-বিপর্যয় মা বাবার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং। তাই শিশুর রাতের ঘুমকে আরও আরামদায়ক ও নিয়মিত করার জন্য আজ আলোচনা করবো কিছু কার্যকরী পদ্ধতি। আশা করি এতে সহজেই সমাধান হবে শিশুর ঘুমের সমস্যার।

ফার্বার পদ্ধতি

ফার্বার পদ্ধতি শিশুকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ঘুমাতে অভ্যাস করানোর একটি জনপ্রিয় পদ্ধতি। এই পদ্ধতিটি চিলড্রেনস হসপিটালের পেডিয়াট্রিক স্লিপ ডিসঅর্ডার সেন্টারের ডিরেক্টর রিচার্ড ফার্বারের নাম অনুসারে নামকরণ করা হয়। এই পদ্ধতির মাধ্যমে শিশু নিজে নিজে ঘুমিয়ে পড়তে অভ্যস্ত হয়।

যেভাবে এই পদ্ধতি কাজ করে

এই পদ্ধতিতে শিশুরা নিজে নিজেই কিছু নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড বা ঘটনাকে ঘুমের সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে করে এবং রাতে জেগে ওঠার পর আবার ঘুমানোর জন্য একইরকম ঘটনা খোঁজে। যেমন ধরুন, শিশুকে প্রতিরাতে ঘুমানোর জন্য যদি দোল দিতে হয়, বা বুকের দুধ খাওয়াতে হয় তাহলে আপনার শিশু পুনরায় ঘুমানোর জন্য সেই একই জিনিসের অপেক্ষা করবে। ফার্বার পদ্ধতিতেও এভাবে কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার সাথে শিশুর ঘুমের প্যাটার্নকে সম্পর্কিত করতে হবে।

১) প্রথমে আপনার শিশুকে তার দোলনা বা বিছানায় শুইয়ে শুভরাত্রি বলুন এবং ঘর থেকে বেরিয়ে যান। যদি শিশু কান্না শুরু করে, তবুও ৫ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করুন। পাঁচ মিনিট পর ঘরে ঢুকে তাকে দোলনা থেকে না উঠিয়েই শান্ত করুন। তারপর আবার ঘরের বাইরে চলে যান।

২) এবার ১০ মিনিটের জন্য অপেক্ষা করুন তারপর ঘরে ঢুকে তাকে শান্ত করুন। এভাবে প্রতিবার সময়ের ব্যবধান বাড়িয়ে বাড়িয়ে শিশুকে অভ্যস্ত করুন। এতে করে শিশুর ঘুমের সাথে দোলনা বা বিছানাটি সম্পর্কযুক্ত হয়ে ওঠে আর সে বুঝতে শুরু করে যে তাকে এখানে ঘুমাতে হবে। ফলে কিছুদিন পর শিশু ওই নির্দিষ্ট বিছানায় গেলেই ঘুমিয়ে পড়তে অভ্যস্ত হয়।

ধারাবাহিকতা বজায় রাখলে ফার্বার পদ্ধতি প্রায় তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই কার্যকর হতে পারে। এই পদ্ধতিতে শিশু ঘুমানোর সময় প্রথম কয়েকদিন কাঁদলেও এতে শিশুর উপর কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না।

অসুবিধা

শিশুর কান্না সহ্য করা যদি আপনার পক্ষে কঠিন হয় তবে এই পদ্ধতিটির মাধ্যমে সুবিধা পাওয়া আপনার জন্য কঠিন হতে পারে। কিছু শিশু ফার্বার পদ্ধতিটিতে সাড়া দেয় না। যদি আপনার শিশু ১৫ দিনের মধ্যে এটিতে সাড়া না দেয়, তবে আপনাকে অন্য পদ্ধতি বেছে নিতে হবে।

নির্দিষ্ট সময় পর জাগিয়ে তোলা

১) এই পদ্ধতিতে প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য আপনার শিশুর ঘুমের প্যাটার্ন পর্যবেক্ষণ করতে হয়। শিশু যখন ঘুম থেকে জেগে ওঠে, সেই সময়ের প্রায় ১৫ মিনিট আগে তাকে জাগিয়ে তুলুন।

২) ধীরে ধীরে এই সময় বৃদ্ধি করুন, যেন শিশুর ঘুমের সময়কাল দীর্ঘ হয় এবং রাত জাগা কমে যায়। এই পদ্ধতিতে শিশু কান্নাকাটি কম করে এবং বাচ্চার ঘুমানো ও জেগে ওঠার প্যাটার্নের উপর আপনার নিয়ন্ত্রণ চলে আসবে।

৩) বাচ্চাকে জাগিয়ে তুলতে গিয়ে নিজে দ্বিধাগ্রস্থ হবেন না। বেশিরভাগ বাবা-মা শান্তভাবে ঘুমাতে থাকা বাচ্চাকে জাগিয়ে তুলতে মন থেকে সায় পান না। এই পদ্ধতিটি কিছুটা সময় সাপেক্ষ। এটি কার্যকর হতে প্রায় তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সুতরাং, অধৈর্য হয়ে পড়বেন না।

পারিবারিক বিছানায় ঘুমানোর পদ্ধতি

শিশুর ঘুমের সমস্যার সমাধানে এই পদ্ধতিটি আমাদের দেশে খুবই সাধারণ। এই পদ্ধতিতে শিশু প্রতি রাতে বাবা মায়ের সঙ্গে ঘুমায়। এতে শিশু নিরাপদ বোধ করে। ঘুম থেকে হঠাৎ জেগে উঠলেও শিশু বাবা-মাকে তার পাশে দেখতে পায় এবং স্বস্তি বোধ করে। এই পদ্ধতিটি শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর জন্য সুবিধাজনক। সেই সাথে এটি শিশুর নিরাপত্তা ও শান্তির অনুভূতি বাড়ায়।

অসুবিধা

অনেক সময় বাবা মায়ের মাঝে শোয়ার কারণে শিশুর দমবন্ধ লাগতে পারে। বিছানা যথেষ্ট প্রশস্ত না হলে ঘুমে বিঘ্নতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হলে প্রশস্ত বিছানা হতে হবে যেন সবাই আরামের সাথে ঘুমাতে পারে।

এসব পদ্ধতির পাশাপাশি শিশুর ঘুম নিয়মিত করতে কিছু সাধারণ টিপস ফলো করতে পারেন।

টিপস

১। একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করে শিশুকে প্রতিদিন একই সময়ে ঘুম পাড়ান যাতে সে একই সময়ে ঘুমাতে অভ্যস্ত হয়।

২। ঘুমানোর আগে শিশুর পেট ভর্তি রয়েছে কিনা সেটা নিশ্চিত করুন। শিশু যেন পেটে ক্ষুধা নিয়ে না ঘুমায় সেদিকে খেয়াল রাখবেন।

৩। সন্ধ্যায় শিশুকে বিভিন্ন খেলায় ব্যস্ত রাখুন, যেন রাতে গভীর ঘুম হয়।

৪। মাঝরাতে আপনার শিশু জেগে উঠলে তাকে কোলে না তুলে বরং আদর করে পিঠে চাপড় দিয়ে বা মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে আবার ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করুন।

শিশুর ঘুমের প্যাটার্ন রাতারাতি রুটিনে আনা সম্ভব নয়। শিশুকে ঘুম পাড়ানোর জন্য এখানে আলোচিত প্রতিটি পদ্ধতির কার্যকারিতাই সময় সাপেক্ষ। তাই শিশুর ঘুমের ধরন বুঝতে এবং তার প্রয়োজন অনুযায়ী পদ্ধতি বেছে নিতে সময় দিন। ধৈর্য ধরে, ধাপে ধাপে শিশুর জন্য একটি নিরাপদ ও আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন, প্রতিটি শিশুই আলাদা। তাদের জন্য যে পদ্ধতিটি কার্যকর হবে, সেটি খুঁজে পেতে সময় লাগতেই পারে। এজন্য শিশুকে কোনও ধরনের চাপ প্রয়োগ করবেন না। অভিভাবক হিসেবে আপনার ভালোবাসা, যত্ন ও সহানুভূতিই আপনার শিশুর ঘুমের সমস্যা দূর করে একটি সুন্দর রুটিন গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।

ছবি- raisingchildren.net, .parents.com