Category

Health

Category

প্রশ্ন যখন মেদ কমানোর হয় তখন আমরা হরহামেশাই সেটার সাথে সময়ের একটা বিনুনি গেঁথে দিই। শরীরে মেদ এক বছর ধরে জমুক বা ১০ বছর, ‘ওয়েট লস’র সময় আমাদের চিন্তা থাকে কীভাবে এক মাস বা এক সপ্তাহে নির্দিষ্ট পরিমাণ কেজি শরীর থেকে ঝরানো যাবে। নানা রকম ডায়েট প্ল্যান, ঘরোয়া বা বাইরের এক্সারসাইজ সবই আমরা করি। কিন্তু তাও দেখা যায় দিনশেষে ওজনের সেরকম তারতম্য নেই। এইটার পেছনে একটা বড়ো কারণ হলো ওজন কমার পেছনের ‘সাইন্স’ সম্পর্কে ধারণা না থাকা। আজকে সেই সাইন্সটাই বুঝার চেষ্টা করবো আমরা।

এক কেজি ওজন কমাতে কত ক্যালরি বার্ন করতে হয়?

যারা ওজন কমাতে চান তাদের মধ্যে এই প্রশ্নটা আসাটা খুব স্বাভাবিক যে কতোটুকু ক্যালরি বার্ন করতে পারলে আমার ১ কেজি ওজন কমবে। তাহলে চলুন আগে একটু অংক কষে আসা যাক, এরপর প্রক্রিয়া জানা যাবে কীভাবে এই সংখ্যাগুলোকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে পারি।
এক কেজি ওজন কমানোর জন্য আমাদের মোটামুটি ৭৭০০ ক্যালরি কম গ্রহণ করতে হবে অথবা বার্ন করতে হবে। এর মানে হলো আপনি যদি এক সপ্তাহে একটি হেলদি ডায়েট ও কিছু এক্সারসাইজ ফলো করে এক কেজি ওজন কমাতে চান তাহলে আপনাকে টোটাল ৭৭০০ ক্যালরি ঘাটতিতে থাকতে হবে।

এক সপ্তাহে এক কেজি ওজন কি আসলেই কমানো সম্ভব?

প্রত্যেকের শরীরের গড়ন ও গঠন ভিন্ন, তবে সঠিক উপায়ে চললে খুব স্বাস্থ্যকরভাবেই এক সপ্তাহে এক কেজি ওজন আপনি কমাতে পারেন, এবং সেইটা ফ্যাট লস। শুধু আপনার শরীরের পানির পরিমাণ কমবে না।

ই পর্যায়ে একটু ফ্যাট লস এবং ওয়াটার লস নিয়ে কথা বলা জরুরী।

অনেক সময়-ই দেখবেন কোনো রোগের কারণ বা এক্সারসাইজ/ডায়েট শুরু করার প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই আপনার কয়েক কেজি ওজন হঠাৎ করেই কমে গেছে কিন্তু এরপর সেটা আটকে আছে। ধরুন, আপনি ৭০ কেজি ওজনে থাকা অবস্থায় ডায়েট শুরু করেছেন, প্রথম ১-২ সপ্তাহের মধ্যে আপনার হঠাৎ ওজন কয়েক কেজি কমে ৬৫ হয়ে গেল, কিন্তু এরপর আর ওজন কমছেই না, ৬৫তেই আটকে আছে। এই ঘটনাটা হলো ওয়াটার লস।

কিন্তু আপনি যখন ক্যালরি ঘাটতিতে আছেন (calorie deficeit), তখন ওজন খুব ধীরে ধীরে কমবে। কারণ আপনি কোনো ক্র্যাশ ডায়েট ফলো করছেন না। এবং এইটা টেকসই হবে কারণ আপনার অভ্যেসের মধ্যেই তখন আপনার ডায়েট চলে এসেছে। একইসাথে পুষ্টিরও কোনো কমতি নেই। তাই যদি আপনার খুব বিশেষ কোনো উপলক্ষ্য না থাকে তাহলে ক্র্যাশ ডায়েট না করে ফ্যাট লসের দিকে যাওয়া ভালো একটা উপায় হবে।

আবারও ফিরে আসি এক সপ্তাহে এক কেজি ওজন কমানোর সম্ভাবনা-তে। শারীরিক গড়ন বা গঠন আলাদা হলেও ফ্যাট লসের ক্ষেত্রে কয়েকটা ফ্যাক্টর সবার জন্য সমান, এগুলো হলো-

  • শুরুর ওজন
  • অ্যাকটিভিটি লেভেল
  • পুষ্টির পরিমাণ
  • ঘুম
  • হরমোনাল ফ্ল্যাকচুয়েশন

এই ব্যাপারগুলোকে মাথায় রেখে যদি আপনার ডায়েট প্ল্যান এবং এক্সারসাইজ সাজান তাহলে সেক্ষেত্রে এক সপ্তাহে খুব স্বাস্থ্যকরভাবেই ৭৭০০ ক্যালরি বার্ন করা সম্ভব এবং এক কেজি ওজনও কমানো সম্ভব।

কীভাবে ওজন কমানোর সময়েও পুষ্টি নিশ্চিত করতে পারবেন?

ওজন কমানো মানে পুষ্টি কমানো না। এই বিষয়টা ওজন কমানোর সময় মাথায় রাখতে হবে খুব ভালোভাবে। নাহলে দেখা যাবে পুষ্টির অভাবে শরীর দূর্বল হয়ে যাচ্ছে, মানসিকভাবে সমস্যা হচ্ছে এবং কয়দিনের মধ্যেই আপনার ওজন কমানোর মিশন থেমে যাচ্ছে। কীভাবে নিশ্চিত করবেন পুষ্টির প্রাপ্যতা নিয়ে-

১. প্রচুর পানি পান করা

যদি হুট করে খিদে পায় আগে এক গ্লাস ভরে পানি পান করে নিন, অনেক সময় দেখা যায় এইটা শুধু তৃষ্ণা ছিলো। আধঘন্টা অপেক্ষা করার পরেও যদি ক্ষিদে পায়, একটু মৌসুমি ফল খেয়ে নিন।

২. ধীরে খান

গবেষণা বলছে খাওয়ার সময় যখন আমরা সময় নিয়ে চিবিয়ে পুরোটা খাই তখন মস্তিষ্ক সিগন্যাল পায় যে অনেক বেশি খাওয়া হয়েছে এবং পেট বেশিক্ষণ ভরা থাকে, যদিও আপনি হয়তো পরিমাণ বাড়াননি খাবারের!

৩. ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার খান

ফাইবার বেশ কাজের একটা উপাদান যখন আপনি ওজন কমাতে চাচ্ছেন। ফাইবার অনেক সময় পর্যন্ত পেট ভরা রাখে এবং এতে ক্যালরি থাকে না। এর সাথে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য সহ অনেক শারীরিক জটিলতার সমাধান দেয়। তো এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইলে ফাইবারের পরিমাণ বাড়িয়ে নিন ডায়েটে।

৪. প্লেট সাইজ কমিয়ে নিয়ে আসুন

প্লেট বড় হলে মন চাইবেই একটু বেশি খেতে কারণ প্লেট ভরে খাবার না হলে আত্মিক শান্তিটা ঠিক আসে না, সারাদিন মনে হয় আবার ক্ষুধা লাগছে! কিন্তু ওজনও তো কমাতে হবে, কী করা যায়? প্লেটের সাইজ কমিয়ে নিন। বড় প্লেটের জায়গায় ছোটো প্লেটে খাবার খেলে প্লেট ভরেও খাওয়া হবে, মন ভরেও খাওয়া হবে আবার ওজনও কমে আসতে শুরু করবে।

৫. প্রোটিন বাড়িয়ে দিন খাবারে

প্রতিবেলার খাবারে কার্বোহাইড্রেট আর ফ্যাট কমিয়ে দিয়ে বাড়িয়ে দিন প্রোটিনের পরিমাণ। এতে করে আপনার সুবিধা দুই দিক থেকে। প্রোটিন আমাদের শরীরের বিল্ডিং ব্লক, তাই প্রোটিন কিছুটা বেশি খেলেও শরীরের জন্য কোনো ক্ষতি নেই। আর প্রোটিন আপনাকে অনেক সময় পর্যন্ত ‘পেটভর্তি আছে’ এমন অনুভূতি দেয়। তাই অস্বাস্থ্যকর আর চিনিতে ভরা স্ন্যাক্স খাওয়ার ইচ্ছেও কমে যায়।

যতো কৌশলই থাকুক না কেনো দিনশেষে ওজন কমাতে আপনাকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করবে আপনার নিজের ইচ্ছে এবং ধারাবাহিকতা। এই দুটো যত বেশি জিইয়ে থাকবে, ওজনও তত দ্রুত কমবে এবং আপনার নিজের আত্মবিশ্বাসও বাড়বে। তাই ডায়েট, এক্সারসাইজ সবকিছুর সাথে নিজের মনের যত্নটাও জরুরী!

আমাদের দেশে বাচ্চাদের কৃমির সংক্রমণ খুব কমন একটি বিষয়। কৃমি শুধু বাসার ছোটদের নয়, বড়দেরও হতে পারে। অনেকের ধারনা চিনি বা গুড় খেলে কৃমি হয়, এ ধারণা ভুল। কৃমির সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিচ্ছন্ন থাকা। ছোট বাচ্চাদের বেশি সংক্রমণ করে সুতাকৃমি। এছাড়াও বক্র কৃমি, গোল কৃমি, হুইপ ওয়ার্ম আমাদের দেশে কমন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এর কাছ থেকে বিস্তারিত জানবো আজ। চলুন আগে জেনে নেই কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

লক্ষণ

সাধারণত কৃমির সংক্রমণের কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় না। তবে সংক্রমণ বেশি হলে যেসব উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো হলো-

  • ওজন কমে যাওয়া
  • পেটে ব্যথা হওয়া
  • বমি বমি ভাব হওয়া
  • খিটখিটে আচরণ বেড়ে যাওয়া
  • মলদ্বারে চুলকানি হওয়া
  • চুলকানির কারণে ঘুম কমে যাওয়া
  • স্টুলের সাথে রক্ত যাওয়া
  • মেয়ে বাচ্চাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া
  • অন্ত্রে ক্ষত সৃষ্টি করে রক্তপাত করা এবং রক্তশূন্যতা দেখা দেয়া
  • খাবারের রুচি চলে যাওয়া, খাওয়া কমে যাওয়া
  • খাবার হজম না হওয়াতে ডায়রিয়া হওয়া
  • খাওয়ার জিনিস নয় সেসব খেতে চাওয়ার আগ্রহ (যেমন মাটি)

বাচ্চাদের কৃমির সংক্রমণ ও জটিলতা

১) অন্ত্রে কৃমি বেড়ে যেয়ে জমাট বেধে বাওয়াল অবস্ট্রাকশন বা টয়লেটের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া।

২) কৃমি পিত্তথলিতে বা লিভারে চলে যেয়ে ইনফেকশন বা প্রদাহ সৃষ্টি করা।

বেশি পরিমাণে সংক্রমণ হলে এই ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, কৃমির সংক্রমণ যদি কম থাকে তবে এসব লক্ষণ নাও থাকতে পারে।

কীভাবে বাচ্চা কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে?

দূষিত মাটি, পানি থেকে মানুষ কৃমিতে আক্রান্ত হয় বেশি। বাজার থেকে আনা শাক-সবজি, মাছ, মাংস ঠিকভাবে না ধুয়ে খেলে বা অর্ধ সিদ্ধ খাবার খেলে কৃমির সংক্রমণ হতে পার। সাধারণত মাটি বা পানি থেকে কৃমির ডিম বা লার্ভা বাচ্চা বা বড় মানুষের হাত বা পায়ে লেগে যায়। কিছু সময় এসব লার্ভা হাত থেকে মুখের মাধ্যমে অন্ত্র চলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এসব লার্ভা স্কিনভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে।

সংক্রমণ রোধে কী ব্যবস্থা নিবেন?

  • নখ বড় রাখা যাবে না
  • মাটিতে খেলা পরিহার করুন
  • বাসার গৃহপরিচারিকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন
  • ২-৩ দিন পর পর জীবানুনাশক দিয়ে বাসার ফ্লোর পরিষ্কার করা উচিত
  • শিশুকে খালি পায়ে না রাখা ভালো
  • শিশু যেন ময়লা অবর্জনা হাত না দেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন
  • খাবার আগে এবং টয়লেটের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন
  • পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে ব্যবহার করুন
  • ডা: দেখিয়ে নিয়মমতো মেডিসিন খাওয়াতে হবে
  • কোন বয়স থেকে, কত মাস পর পর মেডিসিন খাওয়াতে হবে, সেটা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এর কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন

কিছু সতর্কতা ও আমাদের করণীয়

যেহেতু কৃম‌ির সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো অপরিচ্ছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা; তাই সেদিকে খেয়াল রাখুন। আগেই জানিয়েছি, কৃমির ডিম ও লার্ভা মাটি থেকে আমাদের হাতে যেতে পারে, পরে সেটি মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাওয়ার আগে শিশুর হাত সাবান দিয়ে ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এই বিষয়গুলো মেনে চললেই সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়। কিছুক্ষেত্রে কৃমি পায়ের পাতায় লেগে যায়, তাই শিশুকে নোংরা মাটিতে খালি পায়ে হাঁটতে না দেওয়াই উচিত। কৃমি একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে ছড়ায়, তাই পরিবারের সকলে একসাথে কৃমির মেডিসিন খাওয়া উচিত।

সেই সাথে, শিশুর খাবার প্রস্তুতকারী ও পরিচর্যাকারীর পরিচ্ছন্নতা জরুরি। আজ তাহলে এই পর্যন্তই। আবারও চলে আসবো নতুন কোনো টপিক নিয়ে। ভালো থাকবেন।

শিশুর ডায়াপার র‍্যাশ প্রতিরোধে করণীয় কী, তা নিয়ে আজ বিস্তারিত জানাবেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: তাজরিনা রহমান জেনি।

সবাই কেমন আছেন? আজ খুব কমন একটি বিষয় নিয়ে লিখছি যেটা নিয়ে মায়েদের অনেক প্রশ্ন থাকে। মায়েরা এখন জন্মের পর থেকেই ডায়াপার পরিয়ে রাখেন বাচ্চাকে। ডায়াপার ব্যবহারের কারণে কোনো কোনো শিশুর একেবারেই সমস্যা হয় না। আবার অনেকেরই র‍্যাশ ওঠে, ত্বক লালচে হয়ে যায়। সবার ত্বক এক রকম নয়। কারো কারো ত্বক সেনসিটিভ থাকে। যাদের ত্বক সেনসিটিভ, তাদের ডায়াপার র‍্যাশ বেশি হয়। ডায়াপারে ঢাকা অংশটুকু কখনো লাল, ফোলা ফোলা বা দানাদার দেখা গেলে এবং সেখানে ছোঁয়া লাগলে ব্যথায় শিশু কেঁদে উঠলে বুঝতে হবে ডায়াপার র‍্যাশ হয়েছে। নিয়মিত শিশুর এই এরিয়া পরিষ্কার করা হলে ৩/৪ দিনের মাঝেই র‍্যাশ দূর হয়ে যায়। তবে যদি এরকম হয় র‍্যাশের স্থানে সংক্রমণ, ক্ষত, পুঁজ দেখা যায় এবং দেহে জ্বর থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামশ নিন।

শিশুর ডায়াপার র‍্যাশ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?

১) উচ্চ শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং আরামদায়ক ডায়াপার ব্যবহার করুন যা ওভারফ্লো বা লিকেজ হতে দেবে না এবং বাচ্চার র‍্যাশ হবার প্রবণতা কমাবে।

২) প্রতিবার ডায়াপার পরিবর্তন করে নতুন ডায়াপার পরানোর আগে শরীরের সে অংশটি মুছে নিন।

৩) পেট্রোলিয়াম জেলি, পেট্রোলিয়াম অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করুন। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন।

৪) সঠিক সাইজের ডায়াপার ব্যবহার করুন যাতে বাচ্চার শরীরে অনেক টাইট হয়ে লেগে না থাকে।

৫) র‍্যাশ থাকা অবস্থায় শিশুকে ডায়াপার ছাড়াই ঘুমাতে দিন।

৬) যে খাবারগুলো খেলে আপনার শিশুর ত্বকে অ্যালার্জি হয়, সেগুলো ওকে খাওয়াবেন না। কারণ ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়লে ডায়াপার র‍্যাশ হবার প্রবণতা বেড়ে যায়।

বাড়তি কিছু টিপস

১) ৬-৮ ঘন্টার মাঝে ডায়াপার পাল্টানো উচিত। বাচ্চা যদি পটি করে, তাহলে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবর্তন করে দিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে সময় কোনো ফ্যাক্টর নয়।

২) টাইট ডায়াপার পরানোর জন্য যদি আপনার শিশুর পায়ের ও কোমরের আশেপাশে দাগ দেখতে পান, তাহলে পরের বার একটু ঢিলেঢালা ডায়পার পরাতে হবে।

৩) শিশুর ডায়াপার পরানোর জায়গায়, পায়ে ও কোমরে যদি ফুসকুড়ি দেখতে পান, তাহলে যে ব্র্যান্ডের ডায়াপারটি পরাচ্ছেন তা বদলে ফেলুন।

৪) শিশুর নাভির নাড়ীটি যদি এখনও পরে না যেয়ে থাকে তাহলে সেই স্থানটি শুকনো রাখতে ডায়াপারের কোমরের কাছের অংশটি ভাজঁ করে রাখুন। নাড়ী পরে যাবার কিছুদিন পর র্পযন্ত এমনটি চালিয়ে যান।

৫) শিশুকে সবসময় সামনে থেকে পেছনদিকে মোছাতে হয় (কখনই পেছন থেকে সামনের দিকে মোছাবেন না বিশেষ করে কন্যা শিশুর ক্ষেত্রে, অন্যথায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে যা ইউরিনারি ইনফেকশন ঘটাতে পারে )

৬) আপনার শিশুর পায়ের গোড়ালি ধরে উপরে দিকটি ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে হবে। তার হাঁটু ও নিতম্বের ভাঁজগুলোও পরিষ্কার করতে হবে।

৭) জীবাণু যাতে ছড়াতে না পারে সেজন্য শিশুর ডায়াপার বদলাবার পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।

কোন বয়স থেকে শিশুকে ডায়াপার পরানো যাবে?

জন্মের পর থেকেই দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে সঠিক সাইজের আরামদায়ক ডায়াপার বেছে নিন। কিন্তু রুমের হিউমিডিটি ও তাপমাত্রা খেয়াল করুন। কারণ গরম পরলে র‍্যাশ বেশি হওয়ার চান্স থাকে।

এতে কোমর সরু হতে পারে কি?

বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। অতিরিক্ত টাইট ডায়াপার সব সময় পরালে হতে পারে, কিন্তু গবেষণা চলছে এই বিষয়ে।

তাহলে আজ আমরা শিশুর ডায়াপার র‍্যাশ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য জানলাম। আজ এইটুকুই, সবাই ভালো থাকবেন।

বাঙালি হিসেবে জন্ম থেকেই আমরা ভোজনরসিক! একটা ছুটির দিন বা একটা উৎসব পেলেই হলো, হাজারটা আইটেমের লিস্ট তৈরি হয়ে যায় মাথায়। কিন্তু শুধু পেট আর মন ভরলে আর কি হবে, ওদিকে পকেট তো ফাঁকা হয়ে যায়! এই রোগ ঐ রোগের জন্য ওষুধ কিনতে কিনতে অবস্থা হয়ে যায় আরো ভঙ্গুর! এর থেকে বাঁচার আর প্রিয় শরীরটাকে বাড়তি ওজন নামের দানবটার থেকে বাঁচানোর তাহলে উপায় কী? খুব সোজা, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং! ঘড়ি ধরে ওজন কমানোর সহজ এই উপায়টি সম্পর্কেই জানাবো আজ।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কী? 

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ব্যাপারটা খুবই ইন্টারেস্টিং, তবে তার আগে চলুন কিছু ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্টস জেনে নেই এই সম্পর্কে। ২০১৯ সালে ইন্টারনেটে সবচেয়ে বেশি খোঁজা শব্দগুলোর মধ্যে বেশ উপরের দিকেই জায়গা করে নিয়েছিলো এই শব্দটি। কী পরিমাণ সাড়া পড়েছিল তাহলে বুঝতেই পারছেন! তবে ২০১৯ সালের আরো আগে থেকেই এই নিয়ে কথা চলছিলো। ইংল্যান্ডের জার্নাল অব মেডিসিন এ নিয়ে একটা গবেষণাপত্রই বানিয়ে ফেললো শুধু একটা ডায়েট স্টাইলের উপর ভিত্তি করে। এছাড়াও ২০১২ সালে বিবিসি-তে একটি প্রোগ্রাম হতো, যার নাম ছিলো ‘Eat Fast, Live Longer’। বুঝতেই পারছেন জ্ঞানীগুণী মহলে এই বস্তুর ভক্তের অভাব নেই।

এই ফাস্টিং আসলে কীভাবে করে? ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হলো সবিরাম উপোস। এটি এমন একটি খাদ্যাভ্যাস যেখানে আপনি কী খাচ্ছেন, কতটুকু খাচ্ছেন সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয় বরং আপনি কোন সময়ে খাচ্ছেন আর কোন সময়ে খাচ্ছেন না সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটো ইন্টারমিটেন্ট পদ্ধতি হলো ১৬ঃ৮ আর ৫ঃ২।

১৬ঃ৮ মানে হলো আপনি দিনের মধ্যে যেকোনো সময়, আপনার সুবিধা অনুযায়ী, ৮ ঘন্টা খাবেন আর বাকি ১৬ ঘন্টা কোনো রকম ক্যালরি গ্রহণ করতে পারবেন না। অনেকটাই আমাদের মুসলমানদের রোজা রাখার মতো। তবে ভয় নেই, আপনাকে একেবারে না খেয়ে থাকতে কেউ বলবে না, বরং চাইলে আপনি একেবারে লো ক্যালরি যুক্ত কিছু যেমন- ফলের ফ্লেভারযুক্ত পানি, শসা বা কম ক্যালরির যেকোনো ফল একেবারে অল্প পরিমাণে খেতে পারেন। ৫ঃ২ হলো সপ্তাহে ৫ দিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা এবং দুইদিন উপবাস থাকা। তবে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে আপনার ক্যারি ইনটেক যেন কোনোভাবেই আপনার ওজন কমানোর অন্তরায় না হয়ে যায়!

ওজন কমাতে কি আসলেই এটা কাজে দিবে?

মোটামুটি আমরা বুঝলাম যে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এর ব্যাপারটা আসলে কী, এবার চলুন আরেকটু কাঁটাছেড়া করি পুরো জিনিসটাকে। জেনে নেই ঠিক কীভাবে এই প্রক্রিয়ায় আপনি ওজন কমাতে পারেন।

আমরা যেসব খাবার খাই, কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিন বা ফ্যাট যাই হোক, সেগুলোকে বডি দুইভাবে ভেঙে ফেলে। একভাগে থাকে গ্লুকোজ, এই গ্লুকোজ আমাদের দেহের সব কোষের মধ্যে যায় এবং অক্সিডেশনের মাধ্যমে সেখানে শক্তি দেয়। বলাবাহুল্য, সেই শক্তি দিয়েই আমরা কাজ করি। এখন ধরে নিন, আপনি খাবার বেশি খেয়েছেন বা যে পরিমাণ কাজ করলে আপনার প্রতিদিনের এনার্জি বার্ন হবে সেই পরিমাণে আপনি কাজ করেননি। তাহলে কী হবে? খুব স্বাভাবিকভাবেই শরীরে শক্তি জমা থাকবে। এখানে আসছে আমাদের দ্বিতীয় ভাগ, আমাদের শরীরে যত বাড়তি শক্তি আছে বা গ্লুকোজ আছে সেগুলোকে ফ্যাট আমাকে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মাংসপেশির নিচে জমিয়ে রাখে। আর আমরা মোটা হয়ে যাই এভাবেই!

এবার ভাবুন তো, যখন আমরা রমজান মাসে রোজা থাকি বা সারাদিনের একটা লম্বা সময় না খেয়ে থাকি তখন কই থেকে আসে আমাদের কাজ করার শক্তি? আর শুধু তো কাজ করার শক্তি নয়, বরং আমাদের হৃৎপিন্ড, ফুসফুস, ব্রেইন এসব ইন্টার্নাল অর্গানগুলোর নিজেদের কাজ চালিয়ে নিতেও তো শক্তি লাগে, তাই না? সেগুলো আসে কোথা থেকে? আমাদের শরীরে জমে থাকা ফ্যাট তখন প্রয়োজন অনুযায়ী গ্লুকোজে ভেঙে যায় এবং শক্তির জোগান দেয়। এভাবেই ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং আমাদেরকে শক্তি দেয় এবং শরীরের জমানো ফ্যাটগুলোকে ভেঙে শরীরকে আরেকটু হালকা বানায়।

এই ফাস্টিং এর সুবিধা কী? 

কিছুটা আদ্যোপান্ত তো জানা হলো ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ে, এবার চলুন জেনে নেওয়া যাক এটি কি শুধু ওজনই কমায় নাকি আরো কিছু উপকারও দেয় সে সম্পর্কে। এই ফাস্টিং এর সুবিধা-

  • আমাদের রক্তে চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
  • শরীরে ইনসুলিন প্রোডাকশন বাড়িয়ে দেয়, যার জন্য শরীরের অতিরিক্ত শর্করা ভেঙে যায়
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
  • স্ট্রেস হরমোন ক্ষরণ কমিয়ে দেয়
  • হরমোন ব্যালেন্সিং এর ক্ষেত্রে বেশ সাহায্য করে
  • স্কিনের গ্লো বাড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রেও এর কিছুটা প্রভাব আছে বলে ধারণা করা হয়

কাদের জন্য এই ফাস্টিং নয়? 

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এর প্রচুর উপকারী দিক থাকলেও এটা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। কারা এই ফাস্টিং করতে পারবেন না চলুন জেনে আসি।

  • যারা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চেষ্টা করছেন
  • গর্ভবতী নারী
  • স্তন্যদাত্রী
  • ডায়াবেটিস রোগী
  • নিম্ন ওজন আছে এরকম মানুষ
  • নিম্ন রক্তচাপ আছে এমন কেউ

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এর সময়ে আপনার শরীর যেন কোনোভাবেই পানিশূন্যতায় না ভোগে এটা খেয়াল রাখা কিন্তু অবশ্য কর্তব্য! আর খাবার তালিকায় এই সময়টায় প্রসেসড ফুড আর বেশি ভাজাপোড়া জিনিস না রাখাই ভালো। এত সাধ করে যে ওজন কমানোর মিশনে নেমেছেন খেয়াল রাখবেন যেন নিজের ছোট ছোট ভুলের জন্য এই মিশনটা ব্যর্থ না হয়! আর সবচেয়ে ভালো হয় যদি কয়েকজন মিলে একসাথে এই মিশনে নামেন। আজকাল অনেকগুলো ফেইসবুক গ্রুপে এই ধরনের কার্যক্রম চলমান, আগ্রহী হয়ে একটু সার্চ করে যুক্ত হয়ে যেতে পারেন! সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন।

Diet Coke: এতদিন অনেকেই ভাবতেন, মদ খেলে লিভারের হয়। কিন্তু সেই একই রকমের ক্ষতি ডেকে আনতে পারে বোতলবন্দি ঠাণ্ডা পানীয়। সম্প্রতি বার্লিনে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনাইটেড ইউরোপিয়ান গ্যাসট্রোএন্ট্রোলজির বার্ষিক কংগ্রেসে যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে, তার ছত্রে ছত্রে রয়েছে বিস্ফোরক তথ্য

পুজোয় ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে নিশ্চয় আপনিও ঠাণ্ডা পানীয় খেয়েছেন? ক্লান্ত শরীরে যেন একরাশ এনার্জি যোগ করে বোতলবন্দি কালো-কমলা বা সাদা রঙের মিষ্টি ঠাণ্ডা পানীয়। কিন্তু জানেন কি, মাত্র এক বোতল বা ক্যানবন্দী ঠাণ্ডা পানীয় লিভারের জন্য কতটা ক্ষতিকারক? তা সে ‘ডায়েট’ কোল্ড ড্রিঙ্কস হোক বা সাধারণ ফুল ফ্যাট কোল্ড ড্রিঙ্কস! সম্প্রতি এক গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যা চমকে দিয়েছে গবেষকদেরও। এতদিন মনে করা হত, যাঁরা অনেক বেশি পরিমাণে ঠাণ্ডা পানীয় পান করেন, তাঁদেরই লিভারের রোগ হওয়ার বেশি প্রবণতা থাকে, কিন্তু সেই ধারণাকে সম্পূর্ণ ভুল প্রমাণিত করে দিয়েছে সাম্প্রতিক গবেষণা।

ব্রিটেনের এক নয়া গবেষণার প্রকাশিত রিপোর্ট বলছে, ঠাণ্ডা পানীয় পান করলে লিভারের ভিতর অতিরিক্তি চর্বি জমা হতে থাকে। যেখান থেকে MASLD বা ‘মেটাবলিক ডিস-ফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটটিক লিভার ডিজিজ’ জন্ম নেয়। এর সঙ্গে কম বা বেশি পরিমাণে ঠাণ্ডা পানীয় খাওয়ার যোগ নেই। মাত্র ২৫০ মিলিলিটারের ফিজি কার্বোনেটেড ড্রিঙ্কস লিভারের প্রাণঘাতী রোগ হওয়ার প্রবণতাকে এক ধাক্কায় ৬০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

১,২৩,০০০ ব্রিটিশ পূর্ণবয়স্কদের উপরে বৈজ্ঞানিকরা এই গবেষণা চালান। দেখা যায়, যাঁরা কোকা-কোলা পান করেন, তাঁদের লিভারের রোগ ধরা পড়ার প্রবণতা ৫০% বেশি। তাজ্জব করা বিষয়, সাধারণ ছেড়ে যাঁরা চিনি কম খাবেন বলে ডায়েট কোক বা স্প্রাইট জিরো পান করেছেন, তাঁদের MASLD হওয়ার সম্ভাবনা ৬০% বেশি। গবেষণার ফলাফল দেখে বৈজ্ঞানিকরা বলেছেন, বোতলের গায়ে ‘ডায়েট’ লেখা থাকলেই ঠাণ্ডা পানীয় স্বাস্থ্যকর, এই ধারণা টাই ভুল। এটা বিজ্ঞাপনী প্রচার মাত্র। গবেষকদের বক্তব্য, ‘স্বাস্থ্যসচেতন বহু মানুষই আজকাল ডায়েট কোল্ডড্রিঙ্কস খেয়ে ভাবেন, বোধহয় শরীরে চিনির মাতা ঠিক রাখলেন। কিন্তু ওই ডায়েট পানীয় খেয়ে যে লিভার শেষ হয়ে যাচ্ছে সেটা অনেকেরই অজানা।’

গবেষকরা বলছেন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বিশ্ব জুড়েই ঠাণ্ডা পানীয় গ্রহণের প্রবণতা বিপজ্জনক ও চিন্তার বিষয়। প্রতিদিন মাত্র এক ক্যান করে ‘লো’ বা ‘জিরো’ সুগারের সুইটেনড ড্রিঙ্কস প্রাণঘাতী লিভারের রোগ একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু অনেকেই সেটা জানেন পর্যন্ত না! কৃত্রিম রাসায়নিক দিয়ে মিষ্টি বানানো পানীয় থেকে দূরে থাকাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ, বলছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলছেন, তেষ্টা পেলে জল খান। জল মেটাবলিজম ঠিক রাখে ও লিভারের বাড়তি ফ্যাট ঝরিয়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে।

আসলে যে সব ঠাণ্ডা পানীয়ে চিনি থাকে, সেগুলি ব্লাড গ্লুকোজ ও ইনসুলিন লেভেলকে প্রভাবিত করে। এতে ওজন ও ইউরিক অ্যাসিড বাড়ে। কিন্তু নন সুগার ড্রিঙ্কস সরাসরি ‘গাট মাইক্রোবায়াম’-এ প্রভাব ফেলে। এতে লিভারের স্বাস্থ্য খারাপ হয়। ৭ অক্টবর বার্লিনে অনুষ্ঠিত হওয়া ইউনাইটেড ইউরোপিয়ান গ্যাসট্রোএন্ট্রোলজির বার্ষিক কংগ্রেসে এই রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে। ব্রিটিশ লিভার ট্রাস্ট-এর অনুমান, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন আজ MASLD বা ‘মেটাবলিক ডিস-ফাংশন অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটটিক লিভার ডিজিজ’-এ আক্রান্ত। যাঁর মধ্যে ৮০% আক্রান্ত জানেনই না যে তাঁদের লিভারের সমস্যা রয়েছে। ডায়াবেটিস বা ওজন বেশি থাকলে অবশ্যই লিভারের টেস্ট করানো উচিত, পরামর্শ চিকিৎসকদের। তাঁরা এও বলছেন, মানুষ ভাবেন শুধু মদ খেলে লিভারের ক্ষতি হয়। কিন্তু বাড়তি মেদ ও অনিয়ন্ত্রিত ব্লাড সুগার-ও শরীরের একইরকম ক্ষতি করে।

চার বছরের জারিফ প্রায়ই রাতে পায়ে ব্যথা হচ্ছে বলে কান্না করে। কিন্তু দিনের বেলায় তার এই ধরনের কোন অনুযোগ থাকে না বলে তার মা এই ব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেয় নি। কিন্তু কাল থেকে সে হাঁটতে গেলেও ব্যথা পাচ্ছে বলার পর বিষয়টি নিয়ে জারিফের মা একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জারিফের মা কে চিকিৎসক বলেন এটা গ্রোথ পেইন। আসুন এবার জেনে নেই শিশুর গ্রোথ পেইন কী এবং এই সমস্যার আদ্যোপান্ত।

গ্রোথ পেইন কী?

শিশুরা যখন বড় হতে থাকে, বিশেষ করে ৩ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে, অনেক সময় তাদের পায়ের পেশি বা সন্ধিতে ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথাকে বলা হয় “গ্রোথ পেইন”। এটি কোনো গুরুতর রোগ নয়, বরং একটি সাধারণ শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়া। গ্রোথ পেইনের সময় ব্যথা সাধারণত দিনের চেয়ে রাতের বেলা বেশি অনুভূত হয় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেক সময় ব্যথা থাকেই না।

যে কারণে গ্রোথ পেইন হয়ঃ

গ্রোথ পেইনের সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনও বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে কিছু কারণকে সম্ভাব্য বলে ধরা হয়:

১। পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ:

শিশুরা সাধারণত দিনব্যাপী খুবই সক্রিয় থাকে। দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা বা লাফালাফির কারণে তাদের মাংসপেশি ও জয়েন্টে চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় ব্যথার কারণ হতে পারে।

২। দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি:

শিশুর শরীরের হাড় ও পেশি যখন দ্রুত বাড়তে থাকে, তখন পেশি ও হাড়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হয়। ফলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।

৩। সঠিক ভঙ্গিতে চলাফেরা না করা:

যদি শিশু সঠিক ভঙ্গিতে না বসে বা না হাঁটে, তবে পেশি এবং হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে। যেমন: ঘাড় ঝু্ঁকে পড়া বা মোবাইল দেখা, কুঁজো হয়ে বসা ইত্যাদি।

গ্রোথ পেইনের কিছু সাধারণ লক্ষণ:

  • ব্যথা পায়ের উরু, কাফ মাসল (পায়ের পেছনের অংশ) বা হাঁটুর আশপাশে অনুভূত হয়।
  • ব্যথা সাধারণত রাতের বেলা বেশি হয় এবং সকালে কমে যায়।
  • ব্যথা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নাও থাকতে পারে।
  • ব্যথা এত তীব্র হয় না যে শিশু স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে না।

গ্রোথ পেইন থেকে পরিত্রাণের উপায়:

গ্রোথ পেইন কোনো গুরুতর সমস্যা নয়, তবে শিশুর ব্যথা কমানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:

১। ম্যাসাজ:

ব্যথা কমানোর জন্য হালকা ম্যাসাজ খুবই কার্যকর। শিশুর পায়ের ব্যথার জায়গায় ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন।

২। গরম সেঁক:

গরম পানির ব্যাগ বা হিটিং প্যাড দিয়ে ব্যথার জায়গায় সেঁক দিন। এটি পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।

৩। ব্যায়াম:

শিশুকে হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করুন। এতে পেশি মজবুত হয় এবং ব্যথা কমে। প্রয়োজনে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।

৪। পেইন রিলিফ ক্রিম:

কিছু ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫। পর্যাপ্ত বিশ্রাম:

শিশুর শরীরের পেশি ও হাড় পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।

চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন?

  • যদি ব্যথার সাথে নিচের কোনও লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
  • ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
  • ব্যথা এত তীব্র হয় যে শিশুর চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়।
  • ব্যথার সঙ্গে অন্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যেমন জ্বর, ফুলে যাওয়া, বা লালচে হয়ে যাওয়া।

গ্রোথ পেইন কমাতে শিশুর সঠিক যত্নঃ

১। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা:

শিশুর খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন নিশ্চিত করুন।এগুলো হাড় ও পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে।

২। সক্রিয় জীবনযাপন:

শিশুকে খেলার মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে উৎসাহিত করুন। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। শিশু যেন পর্যাপ্ত ঘুমায় এবং বিশ্রাম করে সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৩। সঠিক ভঙ্গি:

শিশু যেন সঠিকভাবে বসে, হাঁটে ও দৌড়ায়, তা নিশ্চিত করুন।

৪। জুতার সঠিক নির্বাচন:

শিশুর জুতা আরামদায়ক ও সঠিক মাপের হওয়া উচিত যেন তা পায়ে ব্যথার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

গ্রোথ পেইন একটি সাধারণ ও সাময়িক বিষয়, যা শিশুর বেড়ে ওঠার অংশ। যদিও এটি শিশুদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শিশুকে প্রয়োজনীয় ভালোবাসা ও সমর্থন দিন এবং তাদের আরামদায়ক রাখতে সচেতন থাকুন। প্রতিটি শিশুই বেড়ে উঠুক স্বাস্থ্যবান, সুরক্ষিত ও সুখী পরিবেশে।

বাইরের তাপমাত্রা ৩০+ ডিগ্রী। সামনে এই তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ৩৫-৩৭ এ। গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট সবাই। বড়রা তো মেনে নিতে পারে, বাচ্চাদের জন্য মানিয়ে নেওয়া, বোঝা খুবই কষ্টের। এর মাঝে গরমের রোগ ব্যাধি তো আছেই। গরমের তীব্রতায় বাচ্চাদের খাবারের প্রতিও কোন আগ্রহ থাকে না। গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে বাচ্চাদের খাবার রুটিনের গরমিল যেন নিত্য দিনের ব্যাপার।

গরমে বাচ্চারা কী খাবে, খাবারের ধরন কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে তাদের ভালো রাখা যাবে এই নিয়ে বাবা মায়ের উৎকন্ঠার শেষ নেই। তাদের কিছুটা স্বস্তির জন্যই আমার আজকের লেখা।

গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে শিশুর খাবার যেমন হতে হবে

৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের শুধুমাত্র ব্রেস্ট মিল্ক দিবেন যতোটা সম্ভব। আর্টিফিশিয়াল বা কৌটার দুধ এড়িয়ে চলবেন একেবারে ইমার্জেন্সি না হলে। গরমে বাচ্চাদের ডায়রিয়া, বদহজম, বিভিন্ন চর্মরোগ, সর্দি কাশি, নিউমোনিয়া হতে বেশি দেখা যায়। কাজেই শিশুদের খাবার এমন হতে হবে যেন তা থেকে রোগ সংক্রমণ না হয়।

এছাড়াও গরমে শিশুর খাবার তৈরির সময় আরও যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে সেগুলো হলঃ

১) বাচ্চাদের খাবার হতে হবে সহজপাচ্য। সে হিসেবে নরম করে রান্না ভাত বা জাউ ভাত হতে পারে তাদের কমন খাবার। কম তেল মসলায় /পাঁচফোড়নে রান্না করা সবজি, আর পেঁপে লাউ, ঝিঙ্গা, শশা ইত্যাদি পানি জাতীয় সবজি দিয়ে পাতলা করে মাছের ঝোল দেওয়া যেতে পারে।

২) বাসি খাবার, বাইরের খাবার, ভাজা পোড়া এগুলো পুরোদমে এড়িয়ে যেতে হবে। হালকা পুষ্টিকর খাবার যেমন সবজি দিয়ে নরম পাতলা খিচুড়ি (কম তেল মসলায়), সবজির স্যুপ, মাছ বা মাংসের পাতলা ঝোল দিতে পারেন। এছাড়া ফ্রিজের পানি সরাসরি পান করা থেকে বিরত রাখতে হবে।

৩) ফল বা ফলের জুস ইত্যাদি যতোটা দিতে পারেন ভালো। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, তরমুজ, পেঁপে, জাম, জামরুল ইত্যাদি দেশীয় ফল শিশুকে খেতে দিন। একটু বড় বাচ্চা হলে খাবারের সাথে শশা, গাজর, লেবু দিতে পারেন। মাঝে মাঝে খাবারে রাখতে পারেন দই-চিড়া কলা।

৪) পানি পানের ক্ষেত্রে ফিল্টার পানি পান করাতে হবে। বাইরের খোলা শরবত যেন শিশু না খায়।

৫) প্যাকেট জাত খাবার, চিপস, কেক, চকলেট, আচার, বিস্কুট, দেওয়ায় সতর্ক থাকুন।

প্রচন্ড গরমে শিশুর বিশেষ যত্ন

১) যে ঘরে তাপমাত্রা একটু কম থাকে সে ঘরে বাচ্চাদের রাখতে হবে। এসি থাকলে Temperature ঠিক রাখবেন, যেন বেশি ঠান্ডা না হয় ঘর।

২) বাচ্চাদের নিয়মিত এক বা দুইবার গোসল করালে ভালো অনুভব করে। যেসব বাচ্চারা বেশি ঘামে, তাদের গা মাথা সুতি নরম কাপড় দিয়ে মুছে দিন।

৩) শিশুর প্রস্রাব ঠিকমতো হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন, না হয় ইউরিন ইনফেকশন হতে পারে। বাচ্চারা যেন খেলা বা পড়ার ফাঁকে পানি পান করে সেটি লক্ষ্য রাখুন।

৪) বাচ্চাকে সুতি কাপড় পড়ানো সবচেয়ে ভালো, এতে করে ঘামাচি, চর্ম রোগ,র‍্যাশ কম হবে শরীরে।

৫) বাইরে বা স্কুলে পাঠানোর ক্ষেত্রে শিশুর জন্য উপযোগী সানস্ক্রিন লাগাতে পারেন। ছাতা, রুমাল, পানির বোতল দিতে ভুলবেন না।

এই টিপস গুলো মেনে চললে আশা করি গরমেও শিশুরা থাকবে সুস্থ। আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন।

ইউরিন ইনফেকশন যে শুধু বড়দের হয় ব্যাপারটা কিন্তু তা না। বড়দের মতোই বিভিন্ন কারণে শিশুর ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিতে পারে মূত্রতন্ত্রের কোনো অংশে জীবাণুর সংক্ৰমণ হলে সেটিকে ইউরিন ইনফেকশন বা প্রস্রাবের সংক্ৰমণ বা UTI বলে। মেয়ে শিশুদের এটি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি কিন্তু ছেলে শিশুদেরও এই সমস্যা হতে পারে।

মেয়ে শিশুদের মধ্যে এই রোগের সংক্ৰমণ হওয়ার প্রবণতা বেশি কারণ মেয়েদের মূত্রনালী ছেলেদের মূত্রনালীর তুলনায় দৈর্ঘ্যে অনেক ছোট। এছাড়া মেয়েদের মূত্রনালী পায়ুপথের খুব কাছাকাছি অবস্থিত, ফলে ব্যাকটেরিয়া পায়ুপথ থেকে মূত্রনালীতে খুব সহজে প্রবেশ করে প্রস্রাবের সংক্ৰমণ ঘটায়।

শিশুর ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ

১ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ইউরিন ইনফেকশন হলে সাধারণত শিশু অকারণে বিরক্তি প্রকাশ করে, খেতে চায় না। শিশুর জ্বর থাকতে পারে, কখনো কখনো ডায়রিয়া দেখা দেয়। প্রস্রাবে দুর্গন্ধ, গাঢ় প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা একেবারেই না হওয়া এ ধরনের লক্ষণও দেখা যায়।

১ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ইউরিন ইনফেকশন হলে যে লক্ষণ গুলো দেখা দেয় তা হলঃ

  • জ্বর
  • ঘন ঘন প্রস্রাব
  • প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া
  • বিছানায় প্রস্রাব করা
  • তলপেটে ব্যথা
  • কখনো কখনো প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া
  • কিডনির স্থানে ব্যথা

প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা লালচে হওয়া, প্রস্রাবে দুর্গন্ধ, ঠিকমতো প্রস্রাব না হওয়া, কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা- এই উপসর্গ গুলোও থাকতে পারে।

শিশুদের ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন কেন হয়?

১. মলত্যাগের পর ধৌত করার সময় এসব ব্যাকটেরিয়া প্রস্রাবের দ্বার দিয়ে মূত্রনালি পথে ভেতরে প্রবেশ করলে।

২. এছাড়া মূত্রপথে কোনো আবদ্ধতা(obstruction)থাকলে।

৩.কোষ্ঠকাঠিন্য।

৪. কিছু বাচ্চার মধ্যে জন্ম থেকেই ভেসিকোইউরেটেরাল রিফ্লাক্স বলে এক ধরনের সমস্যা দেখা যায়। তাদের বেশি হয়।

৫. নার্ভাস সিস্টেমের অসুখ থাকলে ব্লাডার পুরোপুরি খালি হতে পারে না।

৬. বাচ্চার যদি টয়লেটে যেতে অনীহা থাকে।

ইউরিন ইনফেকশনের চিকিৎসা

শিশুর ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ দেখা দিলে সেগুলো উপেক্ষা না করে একজন ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনবোধে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের সম্পূর্ণ কোর্স শেষ করা গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষণগুলো কমে আসতে শুরু করলেও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষধের কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণত ঔষধ খাওয়া শুরু করার দুই-তিন দিনের মধ্যে লক্ষণগুলো কমতে শুরু করে। যদি ঔষধের কোর্স সম্পন্ন করার পরেও লক্ষণের উন্নতি না হয় তাহলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশুর ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ

কিছু নিয়ম মেনে চললে ইনফেকশন হওয়ার প্রবণতা কমিয়ে আনা যায়। যেমনঃ মেয়ে বাচ্চাদের টয়লেটে টিস্যু ব্যবহারের সময়ে সামনে থেকে পেছনে পরিষ্কার করুন। শিশুর যৌনাঙ্গ শুকনো ও পরিষ্কার রাখুন। তাকে প্রচুর পানি পান করান। বাথটাব বা পুকুরে গোসল করার পরিবর্তে শাওয়ার কিংবা বালতির সাহায্যে গোসল করান।প্রস্রাব করার সময় শিশু যেন তাড়াহুড়া না করে সেদিকে খেয়াল করুন।

প্রস্রাবের বেগ আসলে তা ধরে রাখবে না এটা বাচ্চাদের শিখাতে হবে। টাইট প্যান্ট পরাবেন না। ইউরিন ইনফেকশন উপেক্ষা করলে সেটি খুব সহজেই গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে। তাই লক্ষণগুলোর ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত ও ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।