আজকাল পেটের মেদ প্রায় সবার জন্য একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পেটের মেদ কমাতে অনেকেই জিম করা, হাঁটা, সাঁতার কিংবা অনেক দামি কোনও ওষুধও ব্যবহার করছেন । কিন্তু দিন শেষে হয়তো হতাশ হওয়া ছাড়া তেমন কোনও ফলাফল পাচ্ছেন না।
সকালে উঠে প্যান্ট টাইট লাগে, আয়নায় নিজের দিকে তাকিয়ে মন খারাপ হয়—এই দৃশ্যটা অনেকেরই পরিচিত। পেটের মেদ কমাতে নানা পদের নিয়ম কানুন শুনে অনেকে হাঁপিয়ে ওঠেন। কিন্তু বাস্তব হলো, পেটের মেদ কমাতে সবচেয়ে বড় ধাপ শুরু হয় আমাদের প্লেট থেকেই। মানে, কী খাচ্ছি আর কী খাচ্ছি না, সেটাই আসল চাবিকাঠি।
চলুন জেনে নিই এমন ৬টি খাবারের কথা, যেগুলো আজ থেকেই বাদ দিলে আপনি সহজেই পেটের মেদ কমাতে পারবেন।
পেটের মেদ কমাতে যে খাবারগুলো বাদ দেবেন
১. কোমল পানীয়
এইসব পানীয় দেখতে রঙিন, খেতে মজাদার, কিন্তু ভেতরে থাকে মারাত্মক পরিমাণে লুকানো চিনি। এক ক্যান কোমল পানীয় মানেই শরীরে ঢুকছে একগাদা ফাঁকা ক্যালোরি, যা সরাসরি গিয়ে পেটের মেদ হিসেবে জমে। নিয়মিত এগুলো খেলে আপনি যতই হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন, তেমন কোনও লাভ হবে না।
২. সাদা পাউরুটি ও ময়দা জাতীয় খাবার
সাদা পাউরুটি বা ময়দা দিয়ে বানানো নানরুটি, কেক, বিস্কুট—সবই খুব পরিচিত খাবার। কিন্তু এগুলোতে ফাইবার বা পুষ্টিগুণ প্রায় নেই বললেই চলে। খাওয়ার পরপরই রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, ফলে ক্ষুধা দ্রুত ফিরে আসে। দিন শেষে খাওয়া বেড়ে যায়, আর পেটে চর্বি জমে।
৩. ভাজাভুজি খাবার (চিপস, ফ্রাইড চিকেন, নাগেটস)
একটু অবসর পেলেই মুখ চলে যায় চিপস বা ফ্রাইড কিছু খুঁজতে। এগুলোতে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত তেল ও ক্যালোরি—যা সরাসরি পেটের মেদ বাড়িয়ে দেয়। যদি একেবারে ছাড়তে না পারেন, তাহলে অন্তত বেকড বা এয়ার ফ্রাইড ভার্সন বেছে নিন।
৪. অ্যালকোহল
অনেকে ভাবেন একটু একটু খেলে ক্ষতি নেই। কিন্তু অ্যালকোহল শরীরের মেটাবলিজম কমিয়ে দেয়, মানে যেটুকু খাবার খাচ্ছেন সেটাও শরীর ঠিকমতো পাচন করতে পারে না। উপরন্তু, অ্যালকোহল ক্ষুধা বাড়ায়—আর সেই সুযোগে আবারও অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে যায়, যা পেটে চর্বি জমায়।
৫. প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, বেকন, হ্যাম)
এইসব মাংসে থাকে অতিরিক্ত সোডিয়াম ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট, যা শরীরের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। পেট ফুলে যায়, ফ্যাট জমে, আর দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই হ্যাম স্যান্ডউইচের বদলে ঘরেই রান্না করা ফ্রেশ মাংস বেছে নিন।
৬. প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও মিষ্টি খাবার
কুকিজ, পেস্ট্রি এসব—দেখতেই মন ভালো হয়ে যায়, কিন্তু এগুলোর ভেতরে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, চিনি, আর একগাদা প্রিজারভেটিভ। এইসব খাবার বেশি খেলে শরীরে ক্যালোরি যুক্ত হয় আর সেই অতিরিক্ত ক্যালোরিই গিয়ে পেটে জমা হয় মেদ হিসেবে।
শেষ কথা
পেটের মেদ কমাতে চাইলে প্রথমেই চাই খাবার নিয়ে সচেতনতা। ব্যায়াম তো আছেই, কিন্তু তার আগে দরকার—খাদ্য তালিকায় পরিবর্তন। আজ থেকেই যদি এই ৬টা খাবার বাদ দেন, তবেই আপনি বুঝবেন পেট ধীরে ধীরে হালকা হচ্ছে। সাথে প্রচুর পানি খান, ঘুম ঠিক রাখুন, আর হালকা হাঁটা শুরু করুন; দেখবেন নিজেকে ভালোবাসছেন আরো বেশি।
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর হার এখন ক্রমশ বাড়ছে। আর এই রোগ নিঃসাড়ে বেড়ে ওঠে শরীরে। এছাড়া হার্ট অ্যাটাক অজান্তেই আক্রমণ করে। যাঁদের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং ওজন বেশি আছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া উচিত। আমেরিকান অ্যাকাডেমি এফ ডার্মাটোলজি অ্যাশোশিয়েশন জানিয়েছে, হৃদরোগের উপসর্গ ফুটে ওঠে ত্বকেও। ত্বকে কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে ডাক্তারের পরামর্শ আবশ্যিক।
সবচেয়ে যে লক্ষণ আগে দেখা যায়, তা হল পা বা পায়ের চেটোতে ফোলা ভাব। হার্ট রক্ত ঠিকঠাক পাম্প না করলে এক রকমের তরল পদার্থ ট্য়িসুতে জমা হয়। ফোলা ভাবের সাথে শরীর দুর্বল হয়ে পরে এবং শ্বাসকষ্টেরও সমস্যা হয়।
আচমকা ত্বকের উপর ছোট ছোট ফুস্কুড়িও হার্টের সমস্যার কারণ হতে পারে। এইরকম ত্বকের সমস্যা চোখের কোনে, হাঁটুতে, পায়ে দেখা যেতে পারে। রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা এবং ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে গেলে ফ্যাটি অ্যাসিড জমে ত্বকে এমন হতে পারে।
আঙুলের যে যায়গা থেকে নখ শুরু হয়, সেই অংশের ত্বক লাল হয়ে ফুলে উঠলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া নখের ডগা গোল হয়ে, নীচের দিকে মুড়ে গেলেও বুঝতে হবে হার্টের সমস্যা হলেও হতে পারে।
আঙুলে এবং তালুর চামরার রঙের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। এর কারণ হল, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি। এ থেকেই বুঝবেন রক্তনালীতে বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। যা সাইনোসিস নামে পরিচিত।
এর ব্যাথার পোশাকি নাম- Plantar fasciitis pain বা প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস। গোড়ালির বাঁকা ধনুকের মতো অংশে ‘প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া’ নামের মোটা টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়ায় এই যন্ত্রণা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে পায়ে সুঁচ ফোটার মতো ব্যাথা, অনেকের ক্ষেত্রে জ্বালা ভাব আবার কারও কারও মধ্যে প্রচণ্ড যন্ত্রণা এই রোগের মূল উপসর্গ।
ঘুম থেকে উঠলেই গোড়ালিতে অসহ্য যন্ত্রণা? খাট থেকে নেমে মাটিতে পা রাখলেই গোড়ালি ব্যাথায় ঝনঝন করে উঠছে? মাটিতে খালি পায়ে নামতেই ভয় করছে? যদি হয়, তাহলে জেনে রাখুন এটা শুধু আপনার নয়, এখন বিশ্বজনীন একটা সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষত মধ্যবয়স্কদের মধ্যে এই সমস্যা এখন খুব ‘কমন’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৪০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে প্রতি দশজনের মধ্যে একজন এখন পায়ের এই ব্যাথায় ভুগছেন। এর ব্যাথার পোশাকি নাম- Plantar fasciitis pain বা প্ল্যান্টার ফ্যাসিটিস।
গোড়ালির বাঁকা ধনুকের মতো অংশে ‘প্ল্যান্টার ফ্যাসিয়া’ নামের মোটা টিস্যু ছিঁড়ে যাওয়ায় এই যন্ত্রণা হয়। অনেকের ক্ষেত্রে পায়ে সুঁচ ফোটার মতো ব্যাথা, অনেকের ক্ষেত্রে জ্বালা ভাব আবার কারও কারও মধ্যে প্রচণ্ড যন্ত্রণা এই রোগের মূল উপসর্গ। চিকিত্সকেরা বলছেন, গোড়ালির এই যন্ত্রণার মূল কারণ, ‘হার্ড সারফেস’ বা শক্ত মেঝেতে বেশিক্ষণ হাঁটাচলা, অবৈজ্ঞানিক জুতো পরা ও অতিরিক্ত ওজন। এই ব্যাথা কয়েক মাস এমনকী কয়েক বছর পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, অপারেশন ছাড়াও এই রোগ নিরাময়ের উপায় রয়েছে। লাইফস্টাইলে কয়েকটি সহজ বদল আনলেই এই ব্যাথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
চিকিৎসকেরা বলছেন, সবার আগে এই যন্ত্রণার কারণ খুঁজে বার করা জরুরি। যেমন একটানা রোজ অনেকটা হাঁটা, অতিরিক্ত ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে দীর্ঘক্ষণ ব্যায়াম করা, অতিরিক্ত ওজন বহন করা বা রোজ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে গোড়ালিতে দীর্ঘস্থায়ী এইরকম ব্যাথা হতে পারে। এই ব্যাথার শুরুটাই হয় সকালবেলা। ঘুম থেকে উঠে মাটিতে পা ফেললেই বা বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকার পর হঠাৎ উঠে দাঁড়ালে যন্ত্রণা শুরু হয়ে যায়। ম্যারাথনের প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় বা ওবেসিটি হলে ওজন বেড়ে যাওয়ায় অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মহিলাদের মধ্যে এই ব্যাথা তৈরি হওয়ার কারণ হরমোনাল পরিবর্তনও হতে পারে। বিশেষত মেনোপজের সময়। পায়ের টিস্যুতে জ্বালাভাব বা ছিঁড়ে গিয়ে যন্ত্রণা অনুভব হতে পারে। চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন, গরমকালে খোলামেলা হওয়ায় কম দামের অবৈজ্ঞানিক ফ্লিপ-ফ্লপ, স্যান্ডেলস পরলেও এই ধরণের যন্ত্রণা হতে পারে।
এবার আসা যাক কীভাবে এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ–
১. গোড়ালির নিচে নরম রবারের বল রেখে হালকা চাপ দিয়ে গোড়ালিতে ব্যাথার জায়গাগুলো ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ম্যাসাজ নেওয়া। এটাই সবচেয়ে সহজ ও বৈজ্ঞানিক উপায়। তবে এর পাশাপাশি
২. ওজন কমাতেই হবে।
৩. গোড়ালিতে ব্যাথার ঠিক নিচে বরফ রেখে ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ নেওয়া।
৪. একটানা হাঁটা, ব্যায়াম বা দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না।
৫. জুতো পরতে হবে নরম, হিলের জায়গায় প্যাডেড সাপোর্ট দেওয়া।
ল্যানসেটের ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডি’-তে প্রকাশিত, গত ১০ বছর ধরে মানুষের রোগভোগের প্রকৃতি পাল্টেছে। যার অন্যতম বড় কারণ, বায়ুদূষণ, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ। তবে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‘হাই ব্লাড সুগার’ ও ‘ওবেসিটি’ -তে আক্রান্তরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সব রোগ বাড়তে বাড়তে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছবে, যে প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করলে পৃথিবীর বুক থেকে আস্ত একটা ‘জেনারেশন’কেই মুছে দিতে পারে।
মোটা হওয়ার ‘রোগ’ বিশ্বজুড়ে। স্থূলতা বা ‘ওবেসিটি’ দ্রুত হারে বাড়ছে। অধিকাংশ রোগভোগেরই অন্যতম মূল কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে এই মেদবৃদ্ধি। অবিলম্বে বাড়তি মেদ কমাতে না পারলে সেটা মহামারীর পর্যায়ে পৌঁছতে আর দেরি নেই। কোনও একটা বা দুটো দেশের এই সমস্যা না। উন্নত থেকে উন্নয়নশীল – সর্বত্রই এই একই রোগ আজ মাথা তুলছে। সম্প্রতি ল্যানসেটে প্রকাশিত এক গবেষণার ফলাফলে এমনটাই প্রকাশিত হয়েছে, যা দেখে উদ্বিগ্ন বিশেষজ্ঞ থেকে চিকিৎসক মহল-ও।
ল্যানসেটের ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ স্টাডি’-তে প্রকাশিত, গত ১০ বছর ধরে মানুষের রোগভোগের প্রকৃতি পাল্টেছে। যার অন্যতম বড় কারণ, বায়ুদূষণ, ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ। তবে সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ‘হাই ব্লাড সুগার’ ও ‘ওবেসিটি’ -তে আক্রান্তরা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই সব রোগ বাড়তে বাড়তে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছবে, যে প্রতিরোধের ব্যবস্থা না করলে পৃথিবীর বুক থেকে আস্ত একটা ‘জেনারেশন’কেই মুছে দিতে পারে।
ল্যানসেটে প্রকাশিত পরিসংখ্যান বলছে-
চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রভূত উন্নতি সত্ত্বেও গত ১০ বছরে রোগে ভুগে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ১১%।
হাই কোলেস্টেরল ও হাই ব্লাড প্রেশারে ভুগে মারা যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে ১৫%
হাই ব্লাড সুগার সংক্রান্ত রোগে ভুগে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে ৬%
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই পরিসংখ্যানের জন্য মানুষের ব্যস্ত লাইফ-স্টাইলকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে গত ৫০ বছরে কোনও দেশের সরকার বা স্বাস্থ্য দফতর ‘ওবেসিটি’ বা মোটা হওয়ার প্রবণতা কমাতে তেমন কোনও উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেনি। তাঁরা বলছেন, ‘হেলান দিয়ে বসে থাকা, প্রসেসড খাবার বেশি খাওয়া ও ক্যালরি না মেপে খাওয়া– এখন আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। সঙ্গে জুড়েছে বেশি নুন, বেশি মিষ্টি ও বেশি ট্রান্স-ফ্যাট দেওয়া খাবার খাওয়ার প্রবণতাও।’ বিশ্বজুড়েই এই প্রবণতার বাড়বাড়ন্ত দেখতে পাওয়া গেছে। বিজ্ঞাপনে প্রভাবিত হয়ে কোল্ড ড্রিঙ্কসের মতো বেশি চিনি দেওয়া তরল পানীয়, বার্গার-স্যান্ডউইচের মতো প্রসেসড মাংস দেওয়া খাবার বেশি করে খাওয়ার প্রবণতা এতটাই বেড়েছে যে আজ সেটা রীতিমমতো আশংকার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বৈজ্ঞানিকরা দেখিয়েছেন, হাই ব্লাড প্রেশারের কারণে হৃদরোগের সমস্যা ও স্ট্রোক হওয়ার প্রবণতা চড়চড় করে বাড়ছে। আজ বিশ্বজুড়ে যে তিনটি রোগে মানুষ সবচেয়ে বেশি মারা যাচ্ছেন, হৃদরোগ তার মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে। বেড়েছে ধূমপান ও দূষণের কারণে রোগে ভুগে মৃত্যুর হারও। ল্যানসেটের সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়েছে, কোভিড মহামারীর পর ডিপ্রেশন ও উৎকণ্ঠা-উদ্বেগে (anxiety) আক্রান্তদের সংখ্যাও প্রবল হারে বেড়েছে। আগে কখনও এমন ভয়াবহ পরিসংখ্যান কোনও গবেষণায় ধরা পড়েনি।
তবে রোগে আক্রান্তদের সংখ্যার বিচারে এগিয়ে ‘ওবেসিটি’ বা মেদবৃদ্ধি। আজ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রতি ৮ জনের মধ্যে একজন ওবেসিটি-তে আক্রান্ত। এই রোগে গতবছরই আক্রান্তের সংখ্যা ১০০ কোটি ছাড়িয়েছে। উদ্বেগের বিষয় হল, এই রোগ ছোট-বড় মানে না। কৈশোর পেরোনোর আগেই প্রায় ১৬ কোটি শিশু এই রোগে আজ আক্রান্ত। বাকি প্রায় ৯০ কোটি প্রাপ্তবয়স্কর ওজন তাঁদের উচ্চতার সঙ্গে এতটাই খাপছাড়া ভাবে বেশি যে তাঁরা ‘ওবেস’ বা অতিরিক্ত মোটা।
পরিসংখ্যান বলছে,
১৯৯০ থেকে ২০২২-এর মধ্যে ছোটদের মধ্যে প্রতিবছর ওবেসিটি বেড়েছে চারগুণ হারে
বড়দের মধ্যে প্রতি বছর দ্বিগুণ হারে।
শুধু ব্রিটেনেই প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ স্থূলতায় আক্রান্ত।
বাচ্চাদের খুব কমন একটি সমস্যা ‘কোষ্ঠকাঠিন্য’। বাচ্চাকে নিয়ে এই সমস্যায় পড়েনি এমন মা-বাবা খুঁজে পাওয়া কঠিন। সপ্তাহে তিনবারের বেশি টয়লেট না হওয়া বা টয়লেট করার সময় শিশু যদি ব্যথা পায় ও কষ্ট অনুভব করে, তাহলে শিশুটি কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছে বলে ধরে নেওয়া হয়। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছরের শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য হতে বেশি দেখা যায়। কিন্তু এর থেকে ছোট শিশুদেরও এই সমস্যা হতে পারে। চলুন একজন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এর কাছ থেকে জেনে নেই বাচ্চাদের কন্সটিপেশনের সমস্যা কেন হয় এবং এক্ষেত্রে বাবা-মায়ের করণীয় কী।
কারণ
১.খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতো না হওয়া
শিশুকে কৌটার দুধ খাওয়ালে এবং তা সঠিক পদ্ধতিতে তৈরি করতে না পারলে শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। অনেক ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাবে মায়েরা শিশুকে খুব পাতলা করে দুধ তৈরি করে খাওয়ান। কিন্তু দুধ পাতলা করে তৈরি করলে তাতে পর্যাপ্ত খাদ্যসার থাকে না, ফলে শিশুর মল তৈরি হতে পারে না। এছাড়া যেসব শিশু দুধ ছাড়া অন্যান্য খাবার খাওয়া শুরু করেছে, তাদের খাবারে আঁশের (ফাইবার) পরিমাণ পর্যাপ্ত না থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য হবে। শাকসবজি, ফলমূল এসব খাবার কম খাওয়া বা একদমই না খাওয়ার কারণেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
২. কম পানি খাওয়া
শিশুকে পরিমাণের তুলনায় পানি কম খাওয়ালে সে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগবে। পানি কম খেলে শরীর পানিশূন্য হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক।
৩. অভ্যাস না করানো
শিশুকে সময়মতো প্রতিদিন টয়লেটের অভ্যাস করানো ভালো। কেননা অনিয়মিতভাবে পটি করালে বা অভ্যাস না করালে সহজেই শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।
৪. ভীতি
একবার কোনো শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য হলে টয়লেট করার ব্যাপারে তার মনে এক ধরনের ভীতির জন্ম নেয়। সে ভাবে, পটি করতে গেলে বুঝি আবার কষ্ট হবে। এটা চিন্তা করে সে মল চেপে রাখার চেষ্টা করে। এর ফলে কন্সটিপেশন হয়ে যায়।
৫. অসুখ-বিসুখ
কিছু কিছু অসুখ-বিসুখের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-
মলদ্বারে ফিশার বা ক্ষত
মলদ্বারের বা মলনালীর অস্বাভাবিক গঠন
অন্ত্রের আবদ্ধতা
হার্সপ্রাং ডিজিজ
থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা হ্রাস প্রভৃতি
৬. ওষুধপত্র
কিছু কিছু ওষুধ ব্যবহারের ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। যেমন- অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ, পেটব্যথার ওষুধ প্রভৃতি। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য শিশুকে বারবার পারগেটিভ জাতীয় ওষুধ দিয়ে টয়লেট করালে শিশু এর প্রতি স্বাভাবিকভাবেই নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তখন কোষ্ঠকাঠিন্য লেগেই থাকে।
শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য এর লক্ষণ
পটি করার সময় কষ্ট অনুভূত হওয়া
কান্নাকাটি করা
শক্ত বা অল্প পরিমাণে মলত্যাগ হওয়া
পেটে ব্যথা বা পেট ফুলে থাকা
বমি বমি ভাব
রক্ত যাওয়া
খাওয়ার রুচি কমে যাওয়া
করণীয়
জন্মের পর পূর্ণ ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে
যদি ফর্মুলা মিল্ক খাওয়ান, তাহলে সঠিক প্রণালীতে তৈরি করে খাওয়াতে হবে
ছয় মাস পর বুকের দুধের পাশাপাশি বাচ্চার পরিপূরক খাবারে পর্যাপ্ত ফাইবার ও পানি যেন থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে
এক বছর বয়সের পর থেকে বাচ্চাকে সকালে খালি পেটে পানি দিতে হবে ও নাস্তার আগে অবশ্যই পটি ট্রেনিং করাতে হবে
বাচ্চার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, পানি আছে কিনা সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে
বাচ্চাদের অবশ্যই প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা খেলাধুলার ব্যবস্থা করে দিতে হবে
ঘরোয়া ব্যায়াম ও নিজের কাজ গোছানোর মতো বিষয়গুলোতেও অভ্যাস করানো জরুরি, এতে কায়িক পরিশ্রম হবে, হজমশক্তি বাড়বে এবং পেট পরিষ্কার থাকবে
বাইরের জাংক ফুড ও বেশি পরিমাণে রেড মিট না খাওয়ানোই ভালো
সেই সাথে শিশুর মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করতে হবে
শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য গুরুতর হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। মা-বাবা একটু সচেতন হলেই শিশুর এই অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা থেকে সহজেই মুক্তি পেতে পারেন। আজ তাহলে এই পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকবেন।
আমাদের দেশে বাচ্চাদের কৃমির সংক্রমণ খুব কমন একটি বিষয়। কৃমি শুধু বাসার ছোটদের নয়, বড়দেরও হতে পারে। অনেকের ধারনা চিনি বা গুড় খেলে কৃমি হয়, এ ধারণা ভুল। কৃমির সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো অপরিচ্ছন্ন থাকা। ছোট বাচ্চাদের বেশি সংক্রমণ করে সুতাকৃমি। এছাড়াও বক্র কৃমি, গোল কৃমি, হুইপ ওয়ার্ম আমাদের দেশে কমন। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এর কাছ থেকে বিস্তারিত জানবো আজ। চলুন আগে জেনে নেই কী কী উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
লক্ষণ
সাধারণত কৃমির সংক্রমণের কোনো লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় না। তবে সংক্রমণ বেশি হলে যেসব উপসর্গ পরিলক্ষিত হয়, সেগুলো হলো-
ওজন কমে যাওয়া
পেটে ব্যথা হওয়া
বমি বমি ভাব হওয়া
খিটখিটে আচরণ বেড়ে যাওয়া
মলদ্বারে চুলকানি হওয়া
চুলকানির কারণে ঘুম কমে যাওয়া
স্টুলের সাথে রক্ত যাওয়া
মেয়ে বাচ্চাদের প্রস্রাবে ইনফেকশন হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া এবং প্রস্রাবের সময় ব্যথা হওয়া
অন্ত্রে ক্ষত সৃষ্টি করে রক্তপাত করা এবং রক্তশূন্যতা দেখা দেয়া
খাবারের রুচি চলে যাওয়া, খাওয়া কমে যাওয়া
খাবার হজম না হওয়াতে ডায়রিয়া হওয়া
খাওয়ার জিনিস নয় সেসব খেতে চাওয়ার আগ্রহ (যেমন মাটি)
বাচ্চাদের কৃমির সংক্রমণ ও জটিলতা
১) অন্ত্রে কৃমি বেড়ে যেয়ে জমাট বেধে বাওয়াল অবস্ট্রাকশন বা টয়লেটের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া।
২) কৃমি পিত্তথলিতে বা লিভারে চলে যেয়ে ইনফেকশন বা প্রদাহ সৃষ্টি করা।
বেশি পরিমাণে সংক্রমণ হলে এই ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তবে মনে রাখবেন, কৃমির সংক্রমণ যদি কম থাকে তবে এসব লক্ষণ নাও থাকতে পারে।
কীভাবে বাচ্চা কৃমিতে আক্রান্ত হতে পারে?
দূষিত মাটি, পানি থেকে মানুষ কৃমিতে আক্রান্ত হয় বেশি। বাজার থেকে আনা শাক-সবজি, মাছ, মাংস ঠিকভাবে না ধুয়ে খেলে বা অর্ধ সিদ্ধ খাবার খেলে কৃমির সংক্রমণ হতে পার। সাধারণত মাটি বা পানি থেকে কৃমির ডিম বা লার্ভা বাচ্চা বা বড় মানুষের হাত বা পায়ে লেগে যায়। কিছু সময় এসব লার্ভা হাত থেকে মুখের মাধ্যমে অন্ত্র চলে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এসব লার্ভা স্কিনভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে।
সংক্রমণ রোধে কী ব্যবস্থা নিবেন?
নখ বড় রাখা যাবে না
মাটিতে খেলা পরিহার করুন
বাসার গৃহপরিচারিকার পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করুন
২-৩ দিন পর পর জীবানুনাশক দিয়ে বাসার ফ্লোর পরিষ্কার করা উচিত
শিশুকে খালি পায়ে না রাখা ভালো
শিশু যেন ময়লা অবর্জনা হাত না দেয় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন
খাবার আগে এবং টয়লেটের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন
পানি ফুটিয়ে বা ফিল্টার করে ব্যবহার করুন
ডা: দেখিয়ে নিয়মমতো মেডিসিন খাওয়াতে হবে
কোন বয়স থেকে, কত মাস পর পর মেডিসিন খাওয়াতে হবে, সেটা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এর কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন
কিছু সতর্কতা ও আমাদের করণীয়
যেহেতু কৃমির সংক্রমণের অন্যতম কারণ হলো অপরিচ্ছন্ন থাকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা; তাই সেদিকে খেয়াল রাখুন। আগেই জানিয়েছি, কৃমির ডিম ও লার্ভা মাটি থেকে আমাদের হাতে যেতে পারে, পরে সেটি মুখের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। টয়লেট ব্যবহারের পর এবং খাওয়ার আগে শিশুর হাত সাবান দিয়ে ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। এই বিষয়গুলো মেনে চললেই সুস্থতা নিশ্চিত করা যায়। কিছুক্ষেত্রে কৃমি পায়ের পাতায় লেগে যায়, তাই শিশুকে নোংরা মাটিতে খালি পায়ে হাঁটতে না দেওয়াই উচিত। কৃমি একজনের কাছ থেকে অন্যজনের কাছে ছড়ায়, তাই পরিবারের সকলে একসাথে কৃমির মেডিসিন খাওয়া উচিত।
সেই সাথে, শিশুর খাবার প্রস্তুতকারী ও পরিচর্যাকারীর পরিচ্ছন্নতা জরুরি। আজ তাহলে এই পর্যন্তই। আবারও চলে আসবো নতুন কোনো টপিক নিয়ে। ভালো থাকবেন।
শিশুর ডায়াপার র্যাশ প্রতিরোধে করণীয় কী, তা নিয়ে আজ বিস্তারিত জানাবেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: তাজরিনা রহমান জেনি।
সবাই কেমন আছেন? আজ খুব কমন একটি বিষয় নিয়ে লিখছি যেটা নিয়ে মায়েদের অনেক প্রশ্ন থাকে। মায়েরা এখন জন্মের পর থেকেই ডায়াপার পরিয়ে রাখেন বাচ্চাকে। ডায়াপার ব্যবহারের কারণে কোনো কোনো শিশুর একেবারেই সমস্যা হয় না। আবার অনেকেরই র্যাশ ওঠে, ত্বক লালচে হয়ে যায়। সবার ত্বক এক রকম নয়। কারো কারো ত্বক সেনসিটিভ থাকে। যাদের ত্বক সেনসিটিভ, তাদের ডায়াপার র্যাশ বেশি হয়। ডায়াপারে ঢাকা অংশটুকু কখনো লাল, ফোলা ফোলা বা দানাদার দেখা গেলে এবং সেখানে ছোঁয়া লাগলে ব্যথায় শিশু কেঁদে উঠলে বুঝতে হবে ডায়াপার র্যাশ হয়েছে। নিয়মিত শিশুর এই এরিয়া পরিষ্কার করা হলে ৩/৪ দিনের মাঝেই র্যাশ দূর হয়ে যায়। তবে যদি এরকম হয় র্যাশের স্থানে সংক্রমণ, ক্ষত, পুঁজ দেখা যায় এবং দেহে জ্বর থাকে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামশ নিন।
শিশুর ডায়াপার র্যাশ কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
১) উচ্চ শোষণ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং আরামদায়ক ডায়াপার ব্যবহার করুন যা ওভারফ্লো বা লিকেজ হতে দেবে না এবং বাচ্চার র্যাশ হবার প্রবণতা কমাবে।
২) প্রতিবার ডায়াপার পরিবর্তন করে নতুন ডায়াপার পরানোর আগে শরীরের সে অংশটি মুছে নিন।
৩) পেট্রোলিয়াম জেলি, পেট্রোলিয়াম অয়েন্টমেন্ট ব্যবহার করুন। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা পাউডারও ব্যবহার করতে পারেন।
৪) সঠিক সাইজের ডায়াপার ব্যবহার করুন যাতে বাচ্চার শরীরে অনেক টাইট হয়ে লেগে না থাকে।
৫) র্যাশ থাকা অবস্থায় শিশুকে ডায়াপার ছাড়াই ঘুমাতে দিন।
৬) যে খাবারগুলো খেলে আপনার শিশুর ত্বকে অ্যালার্জি হয়, সেগুলো ওকে খাওয়াবেন না। কারণ ত্বক সংবেদনশীল হয়ে পড়লে ডায়াপার র্যাশ হবার প্রবণতা বেড়ে যায়।
বাড়তি কিছু টিপস
১) ৬-৮ ঘন্টার মাঝে ডায়াপার পাল্টানো উচিত। বাচ্চা যদি পটি করে, তাহলে তা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরিবর্তন করে দিতে হবে এবং সেক্ষেত্রে সময় কোনো ফ্যাক্টর নয়।
২) টাইট ডায়াপার পরানোর জন্য যদি আপনার শিশুর পায়ের ও কোমরের আশেপাশে দাগ দেখতে পান, তাহলে পরের বার একটু ঢিলেঢালা ডায়পার পরাতে হবে।
৩) শিশুর ডায়াপার পরানোর জায়গায়, পায়ে ও কোমরে যদি ফুসকুড়ি দেখতে পান, তাহলে যে ব্র্যান্ডের ডায়াপারটি পরাচ্ছেন তা বদলে ফেলুন।
৪) শিশুর নাভির নাড়ীটি যদি এখনও পরে না যেয়ে থাকে তাহলে সেই স্থানটি শুকনো রাখতে ডায়াপারের কোমরের কাছের অংশটি ভাজঁ করে রাখুন। নাড়ী পরে যাবার কিছুদিন পর র্পযন্ত এমনটি চালিয়ে যান।
৫) শিশুকে সবসময় সামনে থেকে পেছনদিকে মোছাতে হয় (কখনই পেছন থেকে সামনের দিকে মোছাবেন না বিশেষ করে কন্যা শিশুর ক্ষেত্রে, অন্যথায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে যা ইউরিনারি ইনফেকশনঘটাতে পারে )
৬) আপনার শিশুর পায়ের গোড়ালি ধরে উপরে দিকটি ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে হবে। তার হাঁটু ও নিতম্বের ভাঁজগুলোও পরিষ্কার করতে হবে।
৭) জীবাণু যাতে ছড়াতে না পারে সেজন্য শিশুর ডায়াপার বদলাবার পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে।
কোন বয়স থেকে শিশুকে ডায়াপার পরানো যাবে?
জন্মের পর থেকেই দেওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে সঠিক সাইজের আরামদায়ক ডায়াপার বেছে নিন। কিন্তু রুমের হিউমিডিটি ও তাপমাত্রা খেয়াল করুন। কারণ গরম পরলে র্যাশ বেশি হওয়ার চান্স থাকে।
এতে কোমর সরু হতে পারে কি?
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। অতিরিক্ত টাইট ডায়াপার সব সময় পরালে হতে পারে, কিন্তু গবেষণা চলছে এই বিষয়ে।
তাহলে আজ আমরা শিশুর ডায়াপার র্যাশ নিয়ে বেশ কিছু তথ্য জানলাম। আজ এইটুকুই, সবাই ভালো থাকবেন।
চার বছরের জারিফ প্রায়ই রাতে পায়ে ব্যথা হচ্ছে বলে কান্না করে। কিন্তু দিনের বেলায় তার এই ধরনের কোন অনুযোগ থাকে না বলে তার মা এই ব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেয় নি। কিন্তু কাল থেকে সে হাঁটতে গেলেও ব্যথা পাচ্ছে বলার পর বিষয়টি নিয়ে জারিফের মা একটু চিন্তিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে জারিফের মা কে চিকিৎসক বলেন এটা গ্রোথ পেইন। আসুন এবার জেনে নেই শিশুর গ্রোথ পেইন কী এবং এই সমস্যার আদ্যোপান্ত।
গ্রোথ পেইন কী?
শিশুরা যখন বড় হতে থাকে, বিশেষ করে ৩ থেকে ১২ বছর বয়সের মধ্যে, অনেক সময় তাদের পায়ের পেশি বা সন্ধিতে ব্যথা অনুভূত হয়। এই ব্যথাকে বলা হয় “গ্রোথ পেইন”। এটি কোনো গুরুতর রোগ নয়, বরং একটি সাধারণ শারীরবৃত্তিক প্রক্রিয়া। গ্রোথ পেইনের সময় ব্যথা সাধারণত দিনের চেয়ে রাতের বেলা বেশি অনুভূত হয় এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অনেক সময় ব্যথা থাকেই না।
যে কারণে গ্রোথ পেইন হয়ঃ
গ্রোথ পেইনের সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনও বিজ্ঞানীরা পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে কিছু কারণকে সম্ভাব্য বলে ধরা হয়:
১। পেশির ওপর অতিরিক্ত চাপ:
শিশুরা সাধারণত দিনব্যাপী খুবই সক্রিয় থাকে। দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা বা লাফালাফির কারণে তাদের মাংসপেশি ও জয়েন্টে চাপ পড়ে। এই অতিরিক্ত চাপ অনেক সময় ব্যথার কারণ হতে পারে।
২। দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি:
শিশুর শরীরের হাড় ও পেশি যখন দ্রুত বাড়তে থাকে, তখন পেশি ও হাড়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে কিছুটা সমস্যা হয়। ফলে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
৩। সঠিক ভঙ্গিতে চলাফেরা না করা:
যদি শিশু সঠিক ভঙ্গিতে না বসে বা না হাঁটে, তবে পেশি এবং হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে। যেমন: ঘাড় ঝু্ঁকে পড়া বা মোবাইল দেখা, কুঁজো হয়ে বসা ইত্যাদি।
গ্রোথ পেইনের কিছু সাধারণ লক্ষণ:
ব্যথা পায়ের উরু, কাফ মাসল (পায়ের পেছনের অংশ) বা হাঁটুর আশপাশে অনুভূত হয়।
ব্যথা সাধারণত রাতের বেলা বেশি হয় এবং সকালে কমে যায়।
ব্যথা কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় নাও থাকতে পারে।
ব্যথা এত তীব্র হয় না যে শিশু স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারে না।
গ্রোথ পেইন থেকে পরিত্রাণের উপায়:
গ্রোথ পেইন কোনো গুরুতর সমস্যা নয়, তবে শিশুর ব্যথা কমানোর জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:
১। ম্যাসাজ:
ব্যথা কমানোর জন্য হালকা ম্যাসাজ খুবই কার্যকর। শিশুর পায়ের ব্যথার জায়গায় ধীরে ধীরে ম্যাসাজ করুন।
২। গরম সেঁক:
গরম পানির ব্যাগ বা হিটিং প্যাড দিয়ে ব্যথার জায়গায় সেঁক দিন। এটি পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।
৩। ব্যায়াম:
শিশুকে হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়ামকরতে উৎসাহিত করুন। এতে পেশি মজবুত হয় এবং ব্যথা কমে। প্রয়োজনে একজন ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
৪। পেইন রিলিফ ক্রিম:
কিছু ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যথানাশক ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।
৫। পর্যাপ্ত বিশ্রাম:
শিশুর শরীরের পেশি ও হাড় পুনর্গঠনের জন্য পর্যাপ্ত বিশ্রাম জরুরি।
চিকিৎসকের কাছে কখন যাবেন?
যদি ব্যথার সাথে নিচের কোনও লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
ব্যথা দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
ব্যথা এত তীব্র হয় যে শিশুর চলাফেরা বন্ধ হয়ে যায়।
ব্যথার সঙ্গে অন্য শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, যেমন জ্বর, ফুলে যাওয়া, বা লালচে হয়ে যাওয়া।
গ্রোথ পেইন কমাতে শিশুর সঠিক যত্নঃ
১। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করা:
শিশুর খাবারে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিন নিশ্চিত করুন।এগুলো হাড় ও পেশি মজবুত করতে সাহায্য করে।
২। সক্রিয় জীবনযাপন:
শিশুকে খেলার মাধ্যমে শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে উৎসাহিত করুন। তবে অতিরিক্ত পরিশ্রম যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। শিশু যেন পর্যাপ্ত ঘুমায় এবং বিশ্রাম করে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৩। সঠিক ভঙ্গি:
শিশু যেন সঠিকভাবে বসে, হাঁটে ও দৌড়ায়, তা নিশ্চিত করুন।
৪। জুতার সঠিক নির্বাচন:
শিশুর জুতা আরামদায়ক ও সঠিক মাপের হওয়া উচিত যেন তা পায়ে ব্যথার কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
গ্রোথ পেইন একটি সাধারণ ও সাময়িক বিষয়, যা শিশুর বেড়ে ওঠার অংশ। যদিও এটি শিশুদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে, তবে সঠিক যত্নের মাধ্যমে সহজেই এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। শিশুকে প্রয়োজনীয় ভালোবাসা ও সমর্থন দিন এবং তাদের আরামদায়ক রাখতে সচেতন থাকুন। প্রতিটি শিশুই বেড়ে উঠুক স্বাস্থ্যবান, সুরক্ষিত ও সুখী পরিবেশে।
বাইরের তাপমাত্রা ৩০+ ডিগ্রী। সামনে এই তাপমাত্রা বেড়ে যাবে ৩৫-৩৭ এ। গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট সবাই। বড়রা তো মেনে নিতে পারে, বাচ্চাদের জন্য মানিয়ে নেওয়া, বোঝা খুবই কষ্টের। এর মাঝে গরমের রোগ ব্যাধি তো আছেই। গরমের তীব্রতায় বাচ্চাদের খাবারের প্রতিও কোন আগ্রহ থাকে না। গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে বাচ্চাদের খাবার রুটিনের গরমিল যেন নিত্য দিনের ব্যাপার।
গরমে বাচ্চারা কী খাবে, খাবারের ধরন কেমন হওয়া উচিত, কীভাবে তাদের ভালো রাখা যাবে এই নিয়ে বাবা মায়ের উৎকন্ঠার শেষ নেই। তাদের কিছুটা স্বস্তির জন্যই আমার আজকের লেখা।
গ্রীষ্মের প্রচন্ড গরমে শিশুর খাবার যেমন হতে হবে
৬ মাসের কম বয়সী বাচ্চাদের শুধুমাত্র ব্রেস্ট মিল্ক দিবেন যতোটা সম্ভব। আর্টিফিশিয়াল বা কৌটার দুধ এড়িয়ে চলবেন একেবারে ইমার্জেন্সি না হলে। গরমে বাচ্চাদের ডায়রিয়া, বদহজম, বিভিন্ন চর্মরোগ, সর্দি কাশি, নিউমোনিয়া হতে বেশি দেখা যায়। কাজেই শিশুদের খাবার এমন হতে হবে যেন তা থেকে রোগ সংক্রমণ না হয়।
এছাড়াও গরমে শিশুর খাবার তৈরির সময় আরও যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবে সেগুলো হলঃ
১) বাচ্চাদের খাবার হতে হবে সহজপাচ্য। সে হিসেবে নরম করে রান্না ভাত বা জাউ ভাত হতে পারে তাদের কমন খাবার। কম তেল মসলায় /পাঁচফোড়নে রান্না করা সবজি, আর পেঁপে লাউ, ঝিঙ্গা, শশা ইত্যাদি পানি জাতীয় সবজি দিয়ে পাতলা করে মাছের ঝোল দেওয়া যেতে পারে।
২) বাসি খাবার, বাইরের খাবার, ভাজা পোড়া এগুলো পুরোদমে এড়িয়ে যেতে হবে। হালকা পুষ্টিকর খাবার যেমন সবজি দিয়ে নরম পাতলা খিচুড়ি (কম তেল মসলায়), সবজির স্যুপ, মাছ বা মাংসের পাতলা ঝোল দিতে পারেন। এছাড়া ফ্রিজের পানি সরাসরি পান করা থেকে বিরত রাখতে হবে।
৩) ফল বা ফলের জুস ইত্যাদি যতোটা দিতে পারেন ভালো। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, তরমুজ, পেঁপে, জাম, জামরুল ইত্যাদি দেশীয় ফল শিশুকে খেতে দিন। একটু বড় বাচ্চা হলে খাবারের সাথে শশা, গাজর, লেবু দিতে পারেন। মাঝে মাঝে খাবারে রাখতে পারেন দই-চিড়া কলা।
৪) পানি পানের ক্ষেত্রে ফিল্টার পানি পান করাতে হবে। বাইরের খোলা শরবত যেন শিশু না খায়।
ডায়াবেটিস বলতে আমরা বুঝি রক্তে গ্লুকোজের আধিক্য। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে তাকে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes Mellitus/GDM) বলা হয়ে থাকে। সাধারণত প্রেগনেন্সিতে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে ইন্সুলিন ঠিকভাবে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সাধারণত সন্তান জন্মদানের পরই সেরে যায়। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে পরবর্তীতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং কোনও কোনও ক্ষেত্রে গর্ভের শিশুও ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। তাই এসময় সঠিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা ভীষণ জরুরি।
একজন নারী মা হওয়ার সময় অনেক রকমের জটিলতার মধ্য দিয়ে যায়। তবে এসময়ে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বা GDM হলে পুরো প্রেগনেন্সিতে একটু বেশিই সচেতন থাকতে হয়। পাশাপাশি লাইফস্টাইল মডিফিকেশন ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনও এক্ষেত্রে একান্ত আবশ্যক।
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস এর কিছু কমন লক্ষণ
(১) বারবার প্রস্রাবের প্রয়োজন হওয়া, বিশেষ করে রাতে
(২) ঘন ঘন ইউরিন ইনফেকশন দেখা দেওয়া
(৩) অতিরিক্ত পিপাসা পাওয়া
(৪) অতিরিক্ত ক্লান্তিবোধ হওয়া
(৫) বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া
(৬) ক্ষুধা বেড়ে যাওয়া
কোনও কোনও ক্ষেত্রে মায়ের ওজন কমে যেতে পারে। তবে গর্ভাবস্থায় অন্য অনেক কারণেই ওজন কমতে পারে তাই ওজন কমে গেলেই ডায়াবেটিস হয়েছে এমন ভাবা যাবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে সবার ক্ষেত্রে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিসের লক্ষণ এক নাও থাকতে পারে, কাজেই উপরের লক্ষণগুলো থাকলেই GDM হয়েছে এমনটা ধরে নেওয়া যাবে না। সঠিক ডায়াগনোসিসের মাধ্যমেই জানা যাবে যে সত্যিই GDM হয়েছে কিনা।
প্রেগনেন্সিতে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার পদ্ধতি
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য সাধারণত Oral Glucose Tolerance Test করা হয়। গর্ভাবস্থায় ২৪-২৮ সপ্তাহে এই পরীক্ষা করা হলেও যেসব মায়েরা উচ্চ ঝুঁকিতে থাকেন তাদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটি আগে করা হয়।
এক্ষেত্রে খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ৬.১ মিলিমোল/লিটার (১১০মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) বা তার চেয়ে বেশি অথবা ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পরে ৭.৮ মিলিমোল/লিটার (১৪০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার) বা তার চেয়ে বেশি হলে তাকে GDM ধরা হয়।
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস (GDM) হলে খাদ্যাভ্যাস যেমন হওয়া উচিত
গর্ভাবস্থায় সকলেরই সঠিক পরিমাণে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা উচিত। গর্ভকালীন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে রোগীকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট খাদ্য তালিকা মেনে চলতে হবে।
১) যতটা সম্ভব পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে, মুখে যা ভালো লাগবে তাই অনেক পরিমাণে খেয়ে ফেলবো এমনটা একদম করা যাবে না।
২) এ সময়ের খাদ্য তালিকা এমন হওয়া উচিত যাতে সঠিক পরিমাণে আমিষ, চর্বি, শর্করা এবং সব ধরনের প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ আর ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হবে।
৩) গ্লুকোজ লেভেলকে ঠিক রাখতে সময় মেনে খাবার খেতে হবে। সকালের নাস্তা অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো বেলার খাবার স্কিপ করা যাবে না, অল্প অল্প করে বারবার খেতে হবে।
৪) অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার, ফাস্টফুড, ডুবো তেলে ভাজা খাবার, রিচ ফুড খাওয়া অবশ্যই পরিহার করতে হবে।
৫) নির্দিষ্ট পরিমাণে ফল ও সবজি খাদ্য তালিকায় যোগ করুন, প্রতিবেলার খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখার চেষ্টা করুন।
৬) সরাসরি চিনি বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার খাদ্যতালিকায় রাখবেন না। চর্বি ছাড়া মাছ, ডিম, মুরগির বুকের মাংস খেতে পারেন। লাল মাংস এড়িয়ে চলুন।
৭) নিয়মিত লো-ফ্যাট দুধ ও টক দই খেতে পারেন। খাবারে তেলের ব্যবহার কমাতে হবে, সম্ভব হলে রাইস ব্র্যান, সানফ্লাওয়ার বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।
৮) সাদা চিনি ও সাদা আটা ডায়েটে না রেখে পরিমিত পরিমাণে খেজুর, লাল আটা, ওটস খাদ্য তালিকায় যোগ করুন।
৯) সুগার ক্রেভিং হলে বিস্কুট, কেক, চকলেট, আইসক্রিম এর পরিবর্তে মিষ্টি ফল খেতে পারেন।
১০) চেষ্টা করতে হবে প্রতিদিন একই সময়ে খাবার খাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। একসাথে অনেক খাবার না খেয়ে খাবারগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিতে হবে, ক্যালরি ঠিক রেখে ৩ বেলা প্রধান খাবার, ১/২ বেলা হালকা নাস্তা খেতে হবে।
১১) সকালের খাবারে লো গ্লাইসেমিক খাবারগুলো রাখতে হবে। যেকোনো বেলার খাবারে অর্ধেক শাক-সবজি, বাকি অর্ধেক প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট রাখবেন। প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার চেষ্টা করবেন।
লাইফস্টাইলে যেমন পরিবর্তন জরুরি
জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস (GDM) হলে লাইফস্টাইলেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা প্রয়োজন, যেন গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং মা ও শিশু দুজনেই থাকে সুস্থ।
প্রতিবেলা খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণ পরে ৫-১০ মিনিট হালকা হাঁটাহাঁটি করার চেষ্টা করুন। যদি অন্য কোনও কমপ্লিকেশন না থাকে তাহলে কিন্তু প্রেগনেন্সিতেও হালকা ধরনের ব্যায়াম, হাঁটা চলা, কিছু যোগব্যায়াম করা যায়। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিটের ব্যায়াম রক্তের শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের সাথে আলোচনা করে তারপর ব্যায়াম করুন।
অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি GDM এর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে গর্ভের শিশুরও ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ওজন বা টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে। মায়ের হৃদরোগের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের দিকে মনোযোগী হতে হবে। অতিরিক্ত মানসিক ছাপ GDM নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করে। তাই মনের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হবে। মেডিটেশন এক্ষেত্রে উপকারী ভূমিকা পালন করে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। ঘুমের ঘাটতি হলে ইন্সুলিনের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে যা GDM এর ক্ষেত্রে আরও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
শেষকথা
GDM বা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস দেখা দিলে অবশ্যই একজন গাইনী ডক্টর এর পরামর্শে থেকে নিজের ও গর্ভের শিশুর অবস্থা পরীক্ষা করানো উচিত। এছাড়া পুষ্টিবিদের পরামর্শমতো গর্ভাবস্থার পুরো সময় জুড়ে সঠিক নিয়ম ও ক্যালরি মেনে খাবার খেতে হবে। অর্থাৎ সঠিক খাদ্যতালিকা অনুসরণ করা একান্ত আবশ্যক। গর্ভাবস্থায় নিয়মিতভাবে ফিজিক্যাল কন্ডিশন বুঝে হাঁটাহাটি বা হালকা ব্যায়াম করতে হবে, তবে অবশ্যই আপনার ডক্টর, এক্সপার্ট ও পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী। কোনো অবস্থাতেই এক্সপার্ট এর পরামর্শ ছাড়া ভারি কোনও ব্যায়াম যাবে না।
সঠিকভাবে নিয়ম মেনে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করলে জেস্টেশনাল ডায়াবেটিস হলেও মা ও শিশুর সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব। আজ এ পর্যন্তই। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন।